হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি এমপি কঙ্গনা রানাউত দিল্লির উদ্দেশে ফ্লাইটে উঠতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা!
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, ‘কৃষকদের অসম্মান’ অভিযোগে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কনস্টেবলের হাতে চড় খেয়েছেন কঙ্গনা।
সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) কনস্টেবল যিনি নতুন এমপিকে চড় মেরেছেন তার নাম কুলবিন্দর কৌর। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কঙ্গনাকে চড় মারার পরে অভিযুক্ত কনস্টেবল বলেছেন, তার এই আচরণ ‘কৃষকদের অসম্মান’ করার জন্য ছিলো, কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের পনেরো মাসব্যাপী প্রতিবাদ এবং আইনি গ্যারান্টিসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর কথা মনে করে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি।
সিআইএসএফ কমান্ড্যান্ট ঘটনাটি নোট করেছেন এবং কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
দিল্লিতে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি কঙ্গনা রানাউত। ঘটনার আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘পার্লামেন্টে যাওয়ার পথে, মান্ডি কি সাংসদ।’
ঘটনার পর সন্ধ্যায় এক্স-এ একটি ভিডিও বিবৃতিতে রানাউত বলেছেন যে, ‘আমি নিরাপদে আছি। আমি পুরোপুরি ভালো আছি। ঘটনাটি ঘটেছিল নিরাপত্তা চেক-ইন-এ। মহিলা গার্ড আমার পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি তখন পাশ থেকে এসে আমাকে আঘাত করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন সে আমাকে আঘাত করেছে? তিনি বলেন, 'আমি কৃষকদের সমর্থন করি’। কিন্তু আমার উদ্বেগের বিষয় হল, আমরা কীভাবে তা সামলাব?'
সিআইএসএফ কনস্টেবল বলেছিলেন যে কৃষকদের বিক্ষোভের সময় অভিনেত্রী-এমপি-এর ‘১০০ রুপি’ বিবৃতিতে তিনি বিরক্ত ছিলেন। কঙ্গনা একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন যে ‘কৃষকরা সেখানে ১০০ রুপির এর জন্য বসে আছে’। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলের মতে কঙ্গনা কি সেখানে গিয়ে বসবেন? তার মা তো সেখানে বসে প্রতিবাদ করেছিলেন যখন তিনি এই বিবৃতি দিয়েছিলেন।
রানাউত ২০২০-এর ডিসেম্বরে এক্স-এ ‘১০০ রুপি’ মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন, একজন বয়স্ক মহিলাকে দেখে তিনি বলেছিলেন যে, তাকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য ভাড়া করা যেতে পারে।
দিল্লি শিখ গুরুদুয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান মনজিন্দর সিং সিরসা বলেছিলেন রানাউতকে এক সপ্তাহের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। পরে সেই পোস্টটিও মুছে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আন্তর্জাতিক পপ তারকা রিহানা এক্স-এ কৃষকদের প্রতিবাদের বিষয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন, বলেছিলেন, ‘কেন আমরা এই বিষয়ে কথা বলছি না?’
এর উত্তরে, রানাউত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, ‘কেউ এটা নিয়ে কথা বলছে না, কারণ তারা কৃষক নয়, তারা সন্ত্রাসবাদী যারা ভারতকে ভাগ করার চেষ্টা করছে, যাতে চীন আমাদের দুর্বল ভাঙা দেশটি দখল করতে পারে এবং এটিকে অনেকটা চীনা উপনিবেশে পরিণত করতে পারে। ইউএসএ... বসে থাক বোকা, আমরা আমাদের জাতিকে তোমার মতো করে বিক্রি করছি না।’
পরে পোস্টটি মুছে দেন কঙ্গনা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালের নভেম্বরে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মাস পরে কৃষকদের তীব্র প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থলে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা করেছিলেন।
অনেক বিতর্কের মধ্যে কৃষকরা উদ্বিগ্ন ছিল যে, নতুন আইন এমএসপি বাদ দেবে এবং কৃষির কর্পোরেটাইজেশনের ভয়। এমন একটি দৃশ্য ছিলো যেখানে বড় কোম্পানিগুলো তাদের আর্থিক শক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের উপর অযৌক্তিকভাবে কম দাম চাপিয়ে দেয়।
তারা এও চিন্তিত ছিলো যে ছোট এবং প্রান্তিক জমির মালিকরা এই ধরনের অসুবিধাজনক চুক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে যদি না বিক্রয় মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ঢাকায় আসছেন বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল