অবৈধ সম্পদ অর্জনে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
রূপগঞ্জ উপজেলার আনন্দ হাউজিং সোসাইটি এলাকার মূল্যবান ও দৃষ্টিনন্দন বাড়িটিতে বুধবার দুপুরে অভিযান শুরু হয়।
১২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা অভিযান চালান জেলা প্রশাসন ও দুদকের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম। এর আগে গত ৬ জুলাই শনিবার অভিযান চালিয়ে বাড়িটি সিলগালা করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদ প্রায় আট বছর আগে রূপগঞ্জের প্রয়াত প্রেমানন্দ সরকারের সন্তানদের কাছ থেকে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকায় এই জায়গা কিনে নেন। এরপর ২০২২ সালের দিকে ২৪ কাঠা জমির ওপর সাভানা ইকো রিসোর্ট ডুপ্লেক্স বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।

বেনজীর আহমেদ মাঝেমধ্যেই ওই ডুপ্লেক্সে যেতেন, রাত্রিযাপনও করতেন বলেও তারা জানিয়েছেন। বাড়ির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক রাখা হয় বিদেশি কুকুরসহ কেয়ারটেকার।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন আদালত তৃতীয় দফায় বেনজীরের আরও বিপুল সম্পদ জব্দ করার আদেশ দেয়। সে তালিকায় এই বাংলোটিও ছিলো। এরপর বাড়িটি দেখভালের জন্য জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ দেয় আদালত।
বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন সিলগালা করে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর এদিন দুদক ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল পাঁচঘণ্টা অভিযান চালায়। অভিযানে ভবনটির ভেতর থেকে দেশীয় কোম্পানির এসি, ফ্রিজ, টিভিসহ রান্নাঘরের জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। এছাড়া অন্যান্য কিছু সামগ্রী, বইপত্র, একটি ঝাড়বাতি ও একসেট সোফা জব্দ করেন তারা।
অভিযান শেষে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই বাড়ির সব ধরনের ফার্নিচার খুব সাধারণ মানের। দেশীয় প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ, টিভিসহ রান্নাঘরের জিনিসপত্র একটি সাধারণ পরিবারের যেমন থাকে তেমনি আছে। কিছু বইপত্র, একটি ঝাড়বাতি একসেট সোফা ছাড়া বিশেষ কিছু নেই এই বাড়ি।

দীর্ঘ সময়ের তল্লাশির সময় ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সাংবাদিকদের। এ বিষয়ে এডিসি রাজস্ব বলেন, প্রত্যেকটা জিনিস নির্ভুলভাবে তালিকা করার জন্যই এতো সময় ব্যয় হয়েছে এবং সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
অভিযানে দুদকের উপ পরিচালক মঈনুল হাসান বলেন, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে আমরা এই অভিযান চালিয়েছি। নেতৃত্বে ছিলেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যেসব জিনিসপত্র সেখানে পাওয়া গেছে, সেসবের তালিকা করা হয়েছে।
সম্প্রতি বেনজীর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদ অর্জনের তথ্য সামনে চলে আসায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শত শত বিঘা জমি, রিসোর্ট, খামার, ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পত্তি মালিক সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ২৩ মে বেনজীরের ৮৩টি দলিল জব্দ ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন অবরুদ্ধের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ২৬ মে স্ত্রীর নামে ১১৯টি দলিল ও গুলশানে একদিনেই কেনা চারটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ আসে। ফ্রিজ করা হয় ২৩টি কোম্পানির শেয়ার।
স্ত্রী-সন্তানসহ বেনজীরের অঢেল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে ডাকা হয়। কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তারা। পরপর দুই দফা তলব করলেও বেনজীর ও পরিবারের কেউ দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়নি।
বেনজীরের সেই বিলাসবহুল ডুপ্লেক্সে অভিযান