মেসি মারিয়াদের সার্ভিসতো অনেক পেলো আর্জেন্টিনা। তবে তারপর কারা? কে ধরবেন আর্জেন্টিনার হাল?
এমন প্রশ্ন যখন মাথায় ঘুরপাক খায়, তখন উত্তর হিসেবে হাজির হয় আলমাদা, ফার্নান্দেজ, গুন্দো, জেননদের নাম। মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনার প্রজন্ম কেমন হবে তাই দেখে নেওয়া যাক।
মার্সেলো বিয়েলসা কোচ থাকাকালে অনেকটা জোর করেই নিজের স্কোয়াডে এনেছিলেন হাভিয়ের মাশ্চেরানো নামের আনকোরা এক কিশোরকে।
পরবর্তীতে এই মাশ্চেরানোই হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের বড় ভরসার নাম। লিওনেল মেসি যুগের আগে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড কিংবা সেন্টারব্যাক হিসেবে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের।
এবার সেই হাভিয়ের মাশ্চেরানো নিজেই উঠিয়ে আনছেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের নতুন প্রজন্মকে।

তার অধীনে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি আর্জেন্টিনার ইয়ং স্টাররা। এমনি এবারের প্যারিস অলিম্পিকেও নিজেদের প্রথম ম্যাচটা হেরে বসে মরক্কোর সাথে।
তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় মাশ্চেরানোর দলটা। ওতামেন্ডি, হুলিয়ান আলভারেজের মত স্টাররা দলে থাকলেও একে একে ম্যাজিক দেখানো শুরু করে ইয়ং স্টাররা।
আর্জেন্টিনা ফুটবলের ভবিষ্যৎ ঠিক কতখানি শক্ত, তার একটা ছোট নমুনা হয়তো এবারের অলিম্পিক থেকেই পেয়ে যেতে পারেন ভক্তরা।
আকাশি নীলদের অলিম্পিক স্কোয়াডের আর্ম ব্যান্ডটা ওতামেন্ডির হাতে। তবে তার আগে এই ব্যান্ডের মালিক ছিলেন থিয়াগো আলমাদা। ফুটবলের দুনিয়াতে আলমাদা নিজেকে জানান দিয়েছেন আরও বেশ কয়েক বছর আগেই।

আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে ২৩ বছর বয়েসি আলমাদাকে মেসি পরবর্তী যুগে বড় দায়িত্বে দেখা গেলে খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ড, রাইট মিডফিল্ড তো বটেই, দরকারে লেফট উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে পারেন এই তারকা। এবারের অলিম্পিকের দুই ম্যাচে দুই গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন ভালো ভাবেই।

প্যারিস অলিম্পিকে ইরাকের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচ যারা দেখেছেন তাদের কাছে নায়ক হয়ে গিয়েছেন ইজিকুয়েল ফার্নান্দেজ। মাঝমাঠে হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দলের প্রাণভোমরা বলা হয় তাকে।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে তো বটেই, দরকার অনুযায়ী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও কাজ চালিয়ে যেতে পারেন এই ইয়াং স্টার। ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল আর পর্তুগালের পোর্তো রীতিমতো লড়াইয়ে নেমেছে ২২ বছর বয়েসি এই মিডফিল্ডারের জন্য।

আনহেল ডি মারিয়ার পর আর্জেন্টিনা লেফট উইঙ্গের অন্যতম ভরসার নাম নিকোলাস গঞ্জালেস। তবে ভবিষ্যতে এই পজিশনে দেখা যেতে পারে কেভিন জেনন নামের উদীয়মান এক তারকাকে। তার অন্যতম শক্তি হলো তিনি ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলতে পারেন।
মূলত লেফট মিডফিল্ডার হলেও দলের প্রয়োজনে লেফট উইংব্যাক কিংবা লেফট উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে সক্ষম। তাছাড়া তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেও খেলতে পারদর্শী। যা আর্জেন্টিনা দলের জন্য হতে পারে এক বিশাল প্লাস পয়েন্ট।

আর্জেন্টিনা অবশ্য সবসময়ই স্ট্রাইকারদের স্বর্গরাজ্য। ঐতিহ্যগতভাবে আর্জেন্টিনায় দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকারের অভাব চলছে অনেক দিন থেকে।
এদের মাঝে লুসিয়ানো গুন্দোকে আলাদাভাবে চেনা যায় তার উচ্চতার জন্য। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির এই স্ট্রাইকার এরিয়ালে দুর্দান্ত। আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সে ১৮ ম্যাচে ৫ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট তার। উচ্চতার সুবিধাটা বেশ ভালোই কাজে লাগাচ্ছেন প্রতিটি ম্যাচেই।

এছাড়া মাশ্চেরানোর দলে আছেন ক্লদিও এচেভেরি। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বের নজর কেড়েছেন এই কিশোর। এরইমাঝে তাকে দলে টেনেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। জুটেছে জুনিয়র মেসি তকমা।
উদীয়মান তারকায় ঠাসা এই দলটাকে আর্জেন্টিনা ফুটবলের পরের প্রজন্ম বলা চলে অনায়াসে।
