অবশেষে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে। সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে গত ৯ আগস্ট তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই ওই হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। এর পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি কর হাসপাতালে দুর্নীতির অভিযোগেরও তদন্ত করছে সিবিআই। এই দুই বিষয়েই সিবিআইয়ের আতশ কাচের তলায় রয়েছেন সন্দীপ ঘোষ।
আর্থিক দুর্নীতির মামলার গত ২৪ আগস্ট সিবিআই এফআইআর করে। সূত্রের খবর, এই মামলাতেই ২৫ আগস্ট তার বাড়িতে অভিযান চালায় সিবিআই।
এর পাশাপাশি বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে এইসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিবিআই। গত ১৬ আগস্ট থেকে টানা ১৫ দিন সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় সন্দীপকে। মাঝে শনিবার ও রোববার বাদ দিয়ে সোমবার ফের তাকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সন্ধ্যায় সেখানে থেকে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপরেই জানা যায় সন্দীপ ঘোষকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে।
নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আরজি করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তাতে আবাসিক চিকিৎসক থেকে শিক্ষার্থী, সকলেরই অন্যতম দাবি ছিলো সন্দীপের অপসারণ কিংবা পদত্যাগ। আন্দোলনের চাপে পড়ে গত ১২ আগস্ট পদত্যাগ করেন সন্দীপ। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দীপকে কলকাতার অন্য একটি সরকারি হাসপাতালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। সেখান থেকেও তার অপসারণের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। এর মাঝেই কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় সন্দীপকে ছুটিতে যেতে। সেই থেকে ছুটিতেই ছিলেন সন্দীপ। পরে অবশ্য আন্দোলনের চাপে তাকে সেই পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
আরজি করে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের পরেই সেই সেমিনার হলের পাশের একটি ঘরের দেওয়াল সংস্কারের নাম করে ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগ ওঠে, এ কাজে সন্দীপের নির্দেশ থাকতে পারে। কেন তড়িঘড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করা হলো, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। সে বিষয়েও সন্দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই।
অভিযোগ ওঠে, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি চলেছে। সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গত ১৬ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। এক দিন পরেই উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের পরিবর্তে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে।
সন্দীপ ঘোষ গ্রেপ্তার হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। তাদের বক্তব্য, পুলিশ-স্বাস্থ্যভবন যা করতে পারেনি, তা সিবিআই করে দেখিয়েছে।
চিকিৎসক হত্যা: কলকাতায় দুপুর থেকে ভোর পর্যন্ত প্রতিবাদ