ইরান দখলদার ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের কোনো হামলা হলে তা তেহরানের জন্য ‘গুরুতর’ পরিণতি বয়ে আনবে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আরাবিয়া ইংলিশকে এসব কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা সক্রিয়ভাবে এই হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিয়েছি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান থেকে সরাসরি সামরিক হামলা তেহরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে স্থল আক্রমণ শুরু করেছে ইসরাইল, এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করলো ওয়াশিংটন।

এ সতর্ক বার্তার পরপরই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের যেকোনো হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কিন্তু বর্তমানে কোনো হুমকি চিহ্নিত করা যায়নি।
এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ইসরাইল এবং তার মিত্ররা উচ্চ প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে এবং ইরান থেকে যেকোনো আক্রমণের প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
এর আগে গেলো এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সামরিক জোটভুক্ত অন্য পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের একটি সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে ইসরাইলকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিয়েছিলো। যা দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান শুরু করেছিলো।
চলতি সপ্তাহে ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা নিহত হয়েছেন। নাসরুল্লাহ হত্যা ইসরাইলের জন্য ‘ধ্বংস’ ডেকে আনবে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিলো, ইরান এর জবাব দেবে। তবে ইসরাইলকে মোকাবেলায় তেহরান সেনা মোতায়েন করবে না বলেও জানানো হয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ইসরাইল পৌঁছাতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, যখন ইরান শেষ পর্যন্ত স্বাধীন হবে তখন তা মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি হবে।
তবে ইসরাইলে ইরান হামলা চালালে তা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সে কারণেই এ সংঘাত এড়াতে চায় ইসরাইল মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ইরান, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো। এর জেরেই এসব দেশের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।
তেল আবিবে ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ হিজবুল্লাহর, আশ্রয়কেন্দ্রে লক্ষাধিক ইসরাইলি