যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারিতে ইসরাইলকে ছাড় দেয়ার আর কোন ইচ্ছেই নেই ইরানের। ইসরাইলকে জবাব দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ইরান জানিয়েছে- হামলা হবেই। আর যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে ইসরাইলে সেই হামলা হবে মার্কিন নির্বাচনের আগেই। মার্কিন নির্বাচনের এক সপ্তাহের কম সময়ে তেহরানের এমন হুঁশিয়ারি চরম অস্বস্তিতে ফেলছে বাইডেন প্রশাসনকে। নিজ দেশের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভোট আদায়ে সংঘাত কমিয়ে কৃতিত্ব নিতে চাইলেও উল্টো ইসরাইলের অস্তিত্ব হুমকিতে অসহায় হয়ে পড়েছে বাইডেন প্রশাসন।
বুধবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে ইসরাইলে সম্ভাব্য হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিধ্বংসী ওই হামলা ইসরাইলের জন্য খুব বেদনাদায়ক হবে বলেও নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্র। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যে কোন সময় হতে পারে এই আক্রমণ। তবে কোন দিক থেকে এই হামলা আসবে তা নিয়ে এখনো কোন তথ্যই জোগাড় করতে পারেনি তেল আবিব।

অনিবার্য হামলা থেকে পিছ পা না হওয়ার ব্যাপারে কয়েকদিন ধরে নিশ্চিত করছে ইরান প্রশাসন। ইসরাইলকে কড়ায় গণ্ডায় হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে ইরানের প্রকৃত শক্তির আভাস দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বয়ং আয়াতুল্লাহ খামেনি। আর নেতানিয়াহুকে উচিৎ শিক্ষা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবারের হামলা ইসরাইলের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও। ইরানের আকাশ সীমা অতিক্রম করা মাত্রই তেহরান ইসরাইলে হামলা চালানোর অধিকার পেয়েছে গেছে বলে নিশ্চিত করেন ইরানের আইনপ্রণেতারাও।
হামলা থেকে সরে আসা তো দূরের কথা জায়নবাদির একটি বুলেট বা তীর ছোঁড়ার পরিণামও ইসরাইলকে ভোগ করতে হতো বলে হুঙ্কার দিয়েছেন খামেনির প্রশাসন। এর আগে বেশ কিছু প্রতিবেদনে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিলো- বড় যুদ্ধ এড়াতে এবার ইসরাইলের বাইরে হামলা চালাতে পারে ইরান। তবে আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশটি নিশ্চিত করেছে- বিধ্বংসী হামলা হবে ইসরাইলি ভূখণ্ডের ভেতরেই।

আর এমন হুমকিতে আতঙ্ক, ভয়ে উন্মাদের মতো আচরণ করছে নেতানিয়াহুর প্রশাসন। ইসরাইলের প্রতিটি কোণা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় রয়েছে বলে আগেই সতর্ক করেছিলো তেহরান। অক্টোবরের এক তারিখে প্রায় দুইশ’ মিসাইলের হামলা ইরানের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে রেখেছে। নতুন করে নিজেদের সুরক্ষিত করতে থাডের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যোগ করলেও মার্কিন সেই প্রতিরোধ ভেদ করার মতো অস্ত্রও রয়েছে ইরানের হাতে। আর এমন খবরে রাতে ঘুমাতে পারছে না নেতানিয়াহুর বাহিনী।

প্রাণ বাঁচাতে আগেই বাঙ্কারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে নেতানিয়াহুকে। তার সাথে যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে অন্যদের। তবে তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ইসরাইলিরা। স্নায়ুচাপ কমাতে হামলার জন্য অপেক্ষা না করে উল্টো তেহরানে আক্রমণ চালাতে পরামর্শ দিচ্ছে ইসরাইলের পার্লামেন্টের সদস্যরা। নেসেট সদস্য অ্যাভিগদর লিবারম্যান সামরিক বাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইরানকে আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত সেনা সংখ্যা নিয়ে নেতানিয়াহুর মিথ্যাচার!