অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ। সেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রাণ গেছে আরো ২১ জনের।
প্রদেশটিতে শিয়া যাত্রীবাহী গাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় ৪৩ জন নিহতদের পর নতুন করে সহিংসতার এই ঘটনা ঘটে। গেলো তিন দিনের সহিংসতায় দেশটির বর্তমান মৃতের সংখ্যা ৬৪ জন। মৃত্যুর মিছিলে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার আকাশ-বাতাস।
দু’দিন আগে আততায়ীর গুলি ছিন্নভিন্ন করে দেয়া সেই ৪২ জনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে আছে প্রদেশটি। সাদা কাফনে মোড়া দেহগুলি আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। আচারবিধি শেষ হওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে উঠেছে পাকিস্তানের পরাচিনার শহর।
শেষকৃত্যের আগে রোববার পরাচিনার শহরে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে কফিনগুলো আনা হয়। স্থানীয়ভাবে সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের শোক পালন চলছে। পরাচিনারে দোকান-বাজার-স্কুল সব বন্ধ ছিল। খালি ছিল রাস্তা-ঘাট। বিচারের দাবিতে ধর্মঘটে বসেন স্বজনহারা মানুষেরা।
পরাচিনারের কাছে কয়েকটি সরকারি চেক পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন শিয়া প্রবীণেরা। পরাচিনা ছাড়াও লাহোর, পেশোয়ার-সহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল করে শিয়ারা। সরকার বিরোধী স্লোগান ওঠে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) পরাচিনায় যখন চলছে শোকের মাতম, তখন, সেখানকার কুররম জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতায় আরও ২১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩০ জনের বেশি। শনিবার ভোরে পালটা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রোববার এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, সহিংসতার সময় প্রাদেশিক আইনমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মুখ্য সচিব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা এই স্থানে উপস্থিত ছিলেন। সংঘাতের সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গুলিবর্ষণ করে, সরকারি বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর করে, মার্কেটে দোকানপাট লুট করে এবং চেকপয়েন্ট, বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।
সূত্র জানায়, শুক্রবার মধ্যরাতে পরাচিনার সদর দপ্তর থেকে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাগান বাজার এবং নিম্ন কুররমের আশেপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভারী গুলিবিনিময় শুরু হয়। নিম্ন কুররমের বিভিন্ন স্থানে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় চলতে থাকে। কুররম শহরেও অনিয়মিত গুলির খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলো নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে রেখেছে। মৃতদেহগুলো ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী সাইফ জানিয়েছেন, জিম্মিদের মুক্তি এবং মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করতে আলোচনা চলছে। সহিংসতার কারণে স্থানীয়রা তাদের বাড়ি ছেড়ে আশপাশের এলাকায় পালিয়ে যাচ্ছে।
বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে আছে দিল্লি সহসাই মুক্তি নেই