বাতাসের বিষে নীল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখানের বায়ু দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বাতাসের গুণগত মানের সূচক (একিউআই) কখনও ‘ভয়ানক’, কখনও আবার ‘অত্যন্ত খারাপ’, এমন পর্যায়ের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে দিল্লির বায়ু দূষণ।
টানা আট দিন ধরে দিল্লির বাতাসের গুণগত মানের সূচক ‘অতি ভয়ানক’ পর্যায়ে থাকার পর গত দু’দিন ধরে পরিস্থিতি কিছুটা ‘খারাপ’ পর্যায়ে উঠে এসেছিলো। কিন্তু, শনিবারই পরিস্থিতি আবার বদলেছে। বাতাসের গুণগত মানের সূচক আবার ‘ভয়ানক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে, এখনই যে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলছে না, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
স্থানীয়রা বলছেন, এখনো গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে মুক্তি মেলেনি। বাতাসের অবস্থা এমন যে, মনে হয় একসাথে ৪০টি সিগারেটের ধোঁয়া ঢুকছে ফুসফুসে। বাতাসের মানগত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা ভালো হলেও শনিবার দিল্লির বাতাসের গুণগতমান ছিলো ২২৫। একে অতি অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দিল্লির মতই বাতাসের গুণগত মান কমেছে এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে। মূলত শীত মৌসুমে ধূলিকণা বাতাসে আটকে থাকার কারণেই এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে এসব এলাকার মানুষের গড় আয়ু অন্তত পাঁচ বছর কমার আশঙ্কা আছে বলেও জানান তারা।
রোববারর সকালেও ঘন ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী। দৃশ্যমানতাও নেমেছে অনেক। দিল্লির বাতাসের গুণগত মানের সূচক ৩৬৬ (অত্যন্ত খারাপ)। তবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বাতাসের গুণগত মান ৪০০-র ( অতি ভয়ানক) উপরে রয়েছে। ফলে মোটের উপর দিল্লিতে দূষণের ছবির কোনও রকম হেরফের হয়নি গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান ৪ (গ্র্যাপ) চালু হওয়ার পরেও।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (সিপিসিবি) বলছে, শনিবার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ওয়াজিরপুরের। তারপর জাহাঙ্গিরপুরী, আলিপুর, আনন্দ বিহার, চাঁদনি চক। তবে কিছুটা শুধরেছে বিমানবন্দর, আইটিও, লোঢী রোডের মতো কয়েকটি জায়গার বাতাস। দূষণ তো আছেই, তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ধোঁয়াশাও।
গত এক সপ্তাহেরও বেশ সময় ধরে দিল্লির সকাল ধোঁয়াশায় মোড়া থাকছে। শনিবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় সড়ক, বিমান এবং রেল পরিষেবাও মাঝেমধ্যে ব্যাহত হচ্ছে। দিল্লি থেকে দূরপাল্লার ট্রেনগুলি দেরিতে ছাড়ছে। দিল্লিগামী ট্রেনগুলিও দেরিতে ঢুকছে।
দূষণের দিক থেকে দিল্লির পরই রয়েছে পটনা এবং চণ্ডীগড়। পটনায় বাতাসের গুণগত মানের সূচক ২৯৫ এবং চণ্ডীগড়ে ২৪২ (খারাপ)। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভুবনেশ্বর (২১৮), পঞ্চম স্থানে কলকাতা (২১৯)। তবে বেঙ্গালুরু, হায়দারাবাদ এবং চেন্নাইয়ের বাতাসের গুণগত মান ‘সামান্য খারাপ’।
দিল্লি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার দাবি

এদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে সরানোর প্রস্তাব দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও দেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর।
দু’দিন আগে নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে তিনি পোস্ট করেন, “পুরো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস যে শহরটা কার্যত বাসযোগ্য থাকে না, আর বছরের বাকি সময়টাও কোনও রকমে টিকে থাকা যায়- সেই শহরটার আদৌ কি দেশের রাজধানী থাকা উচিত?
থারুর ১৮নভেম্বর এই টুইটটি করেন। এদিন শহরের গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ‘বিপজ্জনক’ মাত্রার চেয়েও চার-পাঁচগুণ বেশি। শীত পড়তে না পড়তেই যে শহরটা পুরু কালো ধোঁয়াশায় ছেয়ে যায়, কয়েক কোটি দিল্লিবাসী কাশি আর নাকমুখ জ্বালা করার উপসর্গে ভুগতে শুরু করেন এবং ভারতের রাজধানী বিশ্বের দূষিততম শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে আছে।
শশী থারুর প্রস্তাব লুফে নিয়ে অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন, ভারতের রাজধানীটা বরং চেন্নাই বা হায়দ্রাবাদের মতো দক্ষিণের কোনও শহরেই সরানো উচিত। পাশাপাশি দূষণের যে তালিকায় দিল্লি নিয়ম করে শীর্ষে, সেই একই তালিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শশী থারুর যে দিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিততম শহরগুলোর তালিকা টুইট করেছেন, সে দিনের হিসেবে দিল্লির ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে এসেছে ঢাকা।

তিন নম্বরে পাকিস্তানের লাহোর, চারে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সারাজেভো আর পাঁচে ইরাকের বাগদাদ। তবে থারুর এটাও জানাতে ভোলেননি, ঢাকা তালিকায় দু’নম্বরে এলেও দিল্লির দূষণের মাত্রা কিন্তু ঢাকার অন্তত পাঁচগুণ বেশি।
গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ চলছেই