ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তিন জেলা পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস, পূর্ব খাসি হিলস ও পশ্চিম জৈন্তিয়া হিলসে জরুরি অবস্থা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মেঘালয় রাজ্য থেকে একটি সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি সিলেট জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১০ মে) সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানান, ওই অঞ্চলের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। এতে বিশেষ করে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ও স্থাপন করা হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট।
১৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার একাত্তরকে জানান, সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কেউ যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।
এদিকে এমন সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর, বিশেষ করে সীমান্ত ও নিরাপত্তা খাতে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রফেসর ড. সাহাবুল হক একাত্তরকে বলেন, শুধু সীমান্তে নজরদারি যথেষ্ট নয়, সিলেট জেলার ভেতরেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অভিঘাতে ডলার পাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা উচিত। কারণ পরিস্থিতির অবনতি হলে এর প্রভাব রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও গড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু সীমান্ত নয়, বাংলাদেশেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র ও জি-৭