ইরানের কাছে কী সত্যিই পরমাণু অস্ত্র আছে?

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ০৬:২৬ পিএম

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন অভিযোগে ১৩ জুন থেকে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এদিকে, সারা বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তাদের মধ্যে ইসরাইলও রয়েছে। তবে, বারবার প্রশ্ন উঠে আসছে, অন্য দেশ পারলেও ইরান কেন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না?

বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া। তবে, ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র থাকার বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসলেও তারা তা কখনোই স্বীকার করেনি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠে আসতেই পারে, কিছু দেশ পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারলে অন্যরা পারবে না কেন?

১৯৬৮ সালের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি বা এনপিটি শর্ত মতে কোন দেশ কেবল শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যেসব দেশের কাছে আগে থেকেই পরমাণু অস্ত্র আছে, তাদের বাইরে আর কোনও দেশ নতুন করে এই অস্ত্রের তৈরি করতে পারবে না।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এই চুক্তিতে সই করেছে। এমনকি ইরানও চুক্তিতে সই করেছে। কিন্তু ইসরাইল, ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ সুদান সই করেনি। আর, উত্তর কোরিয়া শুরুতে চুক্তিতে থাকলেও পরে বেরিয়ে গেছে।

চুক্তির শুরুতে ভারত ও পাকিস্তানকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তবে, এখন তারা যদি এতে যোগ দিতে চায়, তাহলে প্রথমেই তাদের অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে।

আর ইসরাইল এই চুক্তিতে সই করেনি, কারণ তারা নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে এবং তা নিয়ে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ধূম্রজাল’ তৈরির নীতি অনুসরণ করে আসছে।

এনপিটি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলকে নিজের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে। যা ইসরাইল কখনই তা করেনি। অন্যদিকে, ইরান সব সময় দাবি করছে, তারা পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না এবং তাদের কাছে এমন কোনও অস্ত্রও নেই।

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাজা রেজা শাহ পাহলভির হাত ধরে। এটা ঘটে মূলত বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের দিকে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতাও করত। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ১৯৬৭ সালে তেহরান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র চালু করা হয়।

অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ না করার নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন চুক্তিতে ১৯৬৮ সালে সই করে ইরান। তবে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বন্ধু ছিল সেটা বদলে যায় ১৯৬৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। অনেকের ধারণা, আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৮৪ সালে চীনের সহযোগিতায় ইরানের ইস্পাহানে সর্ববৃহৎ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র চালু করা হয়। যদিও ইরান সব সময়ই বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা বলে এসেছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে আসে ২০০২ সালে, যখন নির্বাসিত একটি বিরোধী দল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও একটি ভারী পানি চুল্লি নির্মাণের গোপন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করে। যদিও এর আগে থেকেই ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এরপর থেকেই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্বেগ প্রায় সব সময়ই ছিলো। এনিয়ে নানা ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতাও ছিলো। যদিও ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং সেগুলো শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী অবশ্য ২০০৩ সালে পারমাণবিক তৎপরতা বন্ধ করে ইরান।

বিগত কয়েক দশকে নেতানিয়াহু বহুবার ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি বলেন, বর্তমান হারে চললে আগামী বসন্তের মধ্যে, সর্বোচ্চ আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে, তারা মাঝামাঝি পর্যায়ে সমৃদ্ধকরণ শেষ করবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে।

২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা আইএইএ জানায়, ইরান প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। অবশ্য ২০১৮ সালে সে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বাইডেন প্রশাসনের সময়ে আবারও চুক্তির বিষয়টি আলোচনা এলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।

তারপর থেকে আবারও ইরান পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ করছে- এমন অভিযোগ আসতে থাকে। এবারের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, আমি মনে করি তারা (ইরান) খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। যদিও এ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে অকাট্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আর, সংঘাতের বিষয়ে ইসরাইলের অবস্থান হলো, তাদের হাতে এছাড়া আর কিছু করার ছিল না। তাদের বিশ্বাস, গত কয়েক মাস ধরে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একদম শেষ ধাপে ছিল। তারা মনে করে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বাধা দেয়া নিয়ে এতদিন যেসব আলাপ-আলোচনা চলছিলো, তা আদতে কোনো কাজে আসছিলো না।

তাই, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করাটাই ছিলো তাদের সর্বশেষ অস্ত্র। ইসরাইল বলছে, ইরানকে তারা অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখে। তাদের মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে তাহলে তারা তা ব্যবহার করবে। কারণ, এর আগে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে তারা ইসরাইলকে ধ্বংস করবে।

সেই ভয় থেকে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না ইসরাইল। যেহেতু দেশটির সামরিক ক্ষমতার পেছনে আমেরিকা সরাসরি জড়িত এবং ইসরাইলকে রক্ষায় সব কিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাই ইরানের বিরুদ্ধে তেল আবিবের কোন পদক্ষেপে বাধা দেয় না আমেরিকা।

যেসব দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, তাদের মতো ইরানও চাইলে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রধান বাধা ইসরাইল ও আমেরিকা। ইরান মনে করে, পরমাণু বোমার মতো ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরি তাদের নীতিবিরোধী কাজ। তবে বাধ্য হলে তৈরির সক্ষমতা রাখে।

এআরএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত রবিবার তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে...
নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রাত ১টায় বিশ্বকাপ ফাইনালের মেগা মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে নামবেন লিওনেল মেসি। আর এই...
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বড়ো ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন। জনপ্রিয় এই মাধ্যম দুটিতে কম্পিউটার বা ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে লগইন বা প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর...
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের পর এবার উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একই সঙ্গে আগামী কয়েক...
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল দেশ, গণতন্ত্র ও সন্তানদের ভবিষ্যতের যে ক্ষতি করেছে তা ভুলে না যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তৈরি হওয়া...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর