উদ্ভিদ বা গাছ-গাছালি কথা বলে। মানুষের মত করে কথা বলতে না পারলেও গাছ নিজেদের মধ্যে সংকেত আদান প্রদানে সক্ষম, যা এক ধরনের যোগাযোগ প্রক্রিয়া। নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী নরম্যান বোরলগ বলেছিলেন, গাছেরা কথা বলে ফিসফিস করে। সে কথা শুনতে হলে যেতে হবে তাদের কাছে।
গাছে কাছে গিয়ে মানুষ কথা শুনতে পায় কিনা, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে প্রাণীরা উদ্ভিদ থেকে আসা শব্দ বা সংকেতের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা তাদের মধ্যে একটি অদৃশ্য বাস্তুতন্ত্রের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা উন্মোচন করে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল দেখেছে যে, যেসব টমেটো গাছ নিজেদের কষ্টের কথা এবং স্বাস্থ্যের অনিষ্ট হতে পারে- এমন ধরনের কোন সংকেত দেয়, তাহলে সেসব টমেটোতে স্ত্রী পতঙ্গরা ডিম পারে না। দুই বছর আগে এই দলটিই প্রথম দেখিয়েছিল যে, গাছপালা কষ্ট পেলে বা অস্বাস্থ্যকর কিছু ঘটলে চিৎকার করে।
শব্দগুলো মানুষের শ্রবণশক্তির বাইরে, তবে অনেক পোকামাকড়, বাদুড় এবং কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী এটি অনুভব করতে পারে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োসি ইয়োভেল বলেন, উদ্ভিদের শব্দের প্রতি কোনও প্রাণীর সাড়া দেয়ার এটিই প্রথম কোন প্রমাণ হাজির করা হলো।

তিনি বলেন, এটা এখনকার অনুমান, কিন্তু এমনও হতে পারে যে, সব ধরনের প্রাণীই উদ্ভিদ থেকে আসা শব্দের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে, যেমন পরাগায়ন করবে নাকি তাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকবে নাকি উদ্ভিদ খাবে। গবেষকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে নিশ্চিত হয়েছেন, পতঙ্গ উদ্ভিদের চেহারার পরিবর্তে শব্দের প্রতি সাড়া দিচ্ছে।
তারা এখন বিভিন্ন উদ্ভিদের শব্দ এবং অন্যান্য প্রজাতিগুলো তাদের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, তা গবেষণা করছেন দেখছেন। বিজ্ঞানী ইয়োভেল বলেন, আপনি ভাবতে পারেন কতটা অনেক জটিল মিথস্ক্রিয়া থাকতে পারে। আর সেটি জানার ক্ষেত্রে আমরা শুধুমাত্র প্রাথমিক ধাপ পেরিয়েছি।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিলাচ হাদানির মতে, গবেষণার আরেকটি ক্ষেত্র হল উদ্ভিদ কি শব্দের মাধ্যমে একে অপরের কাছে তথ্য প্রেরণ করতে পারে এবং প্রতিক্রিয়া হিসাবে কাজ করতে পারে, যেমন খরার পরিস্থিতিতে তাদের পানি সংরক্ষণ করা। এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান খুঁজছি আমরা।
তিনি বলেন, যদি কোনও উদ্ভিদ চাপের মধ্যে থাকে, তবে যে কোন প্রাণী সেটি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয় এবং তারা বিভিন্ন উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেন, উদ্ভিদ সংবেদনশীল নয়। শব্দগুলো তাদের স্থানীয় অবস্থার পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট শারীরিক প্রভাবের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন, এই শব্দগুলো অন্যান্য প্রাণীর জন্য এবং সম্ভবত উদ্ভিদের জন্যও কার্যকর হতে পারে, যারা এই শব্দগুলো উপলব্ধি করতে সক্ষম। যদি তাই হয়, তাহলে অধ্যাপক হাদানির মতে, উদ্ভিদ এবং প্রাণীরা তাদের পারস্পরিক সুবিধার জন্য শব্দ তৈরি এবং শোনার ক্ষমতাসহ বিকশিত হয়।
তিনি বলেন, উদ্ভিদগুলো যদি এর জন্য উপকৃত হয়, তবে আরও বেশি শব্দ বা আরও জোরে শব্দ তৈরি করতে পারে এবং প্রাণীদের শ্রবণশক্তি সেই অনুযায়ী বিকশিত হতে পারে, যাতে তারা এই বিশাল পরিমাণ তথ্য গ্রহণ করতে পারে। এটি একটি বিশাল অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্র। এটি আবিষ্কারের উপেক্ষায় আছে গোটা বিশ্ব।
পরীক্ষায় গবেষকরা স্ত্রী পতঙ্গের উপর নজর রেখে দেখতে পেয়েছেন, তারা সাধারণত টমেটো গাছে ডিম পাড়ে, যাতে ডিম ফুটে লার্ভা টমেটো খেতে পারে। ধারণা ছিলো, পতঙ্গরা ডিম পাড়ার জন্য সর্বোত্তম সম্ভাব্য স্থান খোঁজে, কারণ একটি সুস্থ উদ্ভিদই লার্ভাকে সঠিকভাবে পুষ্টি জোগাতে পারে।
সুতরাং, যখন উদ্ভিদটি সংকেত দেয় সে পানিশূন্য এবং চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন কি পতঙ্গরা সতর্কতাটি মেনে চলবে এবং তাতে ডিম পাড়বে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষকরা বলেন, তারা ডিম পাড়েনি, কারণ গাছগুলো যে শব্দ তৈরি করছিলো, তাতে সাড়া দিয়েই সেসব উদ্ভিদে ডিম পারেনি।
ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েই পুতিনকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প
পরমাণু কর্মসূচি কি ইরানের রাজনৈতিক হাতিয়ার?