যুক্তরাষ্ট্রের ও চীনের সঙ্গে তিন মাসের শুল্ক বিরতি ঘোষণার পর ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ২৪ শতাংশ অতিরিক্ত রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রপ্তানি শুল্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা- কাস্টমস ট্যারিফ কমিশন।
একই দিন থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের ট্যারিফ কমিশন। তবে এই প্রত্যাহারের মেয়াদ থাকবে ৯০ দিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এপ্রিল মাসে সারা বিশ্বের অনেক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তখন যুক্তরাষ্ট্র- চীন বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
প্রতিশোধ নিতে বেইজিং নিজেও শুল্ক আরোপ করেছিলো, একে অপরের ওপর পাল্টা আক্রমণের কারণে শুল্ক তিন অঙ্কে পৌঁছায়। সর্বশেষ ওয়াশিংটন চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক ধার্য করে, পাল্টায় মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে চীন।
তারপর মে মাসে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠক শেষে নতুন শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেই স্থগিতাদেশ শেষ হয়েছে ১২ আগস্ট।
এর আগে গত ১২ মে দু’দেশ ৯০ দিনের জন্য শুল্ক সংঘাত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দু’দেশই একে অন্যের উপর ১১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনে। বর্তমানে চীনা বাজারে মার্কিন পণ্যের উপর ১০ শতাংশ এবং আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার পর থেকেই আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত শুরু হয়। দু’দেশই একে অন্যের উপর শুল্ক চাপাতে শুরু করে। যদিও শুরুটা হয়েছিল ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ ফেন্টানাইলকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্পের অভিযোগ, আমেরিকায় নিষিদ্ধ ওষুধটি চীন থেকে তাঁর দেশে ঢুকছে।
অভিযোগের সঙ্গে ট্রাম্প শুল্কও চাপান চীনা পণ্যের উপর। পরে এপ্রিলে নতুন শুল্কনীতির সময়ে তা আরও বৃদ্ধি পায়।
শুল্কে প্রত্যাঘাত করে বেজিংও। দফায় দফায় দু’দেশই একে অন্যের উপর আঘাত এবং প্রত্যাঘাত চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে চীনা পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করে দেয়া হয়। পাল্টা চীনও ১২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায় মার্কিন পণ্যে। এই বাণিজ্য সংঘাতে আপাতত বিরতি।
অবতরণের সময় ভেঙে পড়লো বিমান, তারপর যা হলো…