জাপানের গুনমা প্রিফেকচারের মিনাকামি এলাকায় কান-এতসু এক্সপ্রেসয়েতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে দুই জন। গত ২৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টোকিও থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মহাসড়কে দুটি ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের পর একের পর এক ধাক্কার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫০টি যানবাহন একে অপরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই ভয়াবহ আগুন শুরু হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ১০টি গাড়িতে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় লাগে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে টোকিও’র একজন ৭৭ বছর বয়সি নারী রয়েছেন। এছাড়া একটি পুড়ে যাওয়া ট্রাকের চালকের আসন থেকে অন্য এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ২৬ জনের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি ২১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় ভারি তুষারপাতের সতর্কতা জারি ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় রাস্তার উপরিভাগ বরফে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় ট্রাক দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়। দুর্ঘটনাকবলিত ও পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। রাস্তার অনেক গাড়ি পুড়ে এমনভাবে কঙ্কাল হয়ে গেছে যে সেগুলো চেনার কোনো উপায় নেই।
দুর্ঘটনার শিকার ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচ-কে বলেন, হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনি এবং সারিবদ্ধ গাড়িগুলোর শেষ প্রান্তে আগুন জ্বলতে দেখি।

মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন অন্য গাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, তাকেসহ প্রায় ৫০ জন মানুষকে নিকটস্থ একটি টোল গেটে সরিয়ে নেয়া হয় এবং তারা সেখানেই রাত কাটান।
মহাসড়ক পরিচালনাকারী সংস্থা ‘নেক্সকো’ জানিয়েছে, আগুনের প্রচণ্ড তাপে রাস্তার উপরিভাগ বা পিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের এই মহাসড়কটি ব্যবহার না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে ইতালিতে ৯ জন গ্রেপ্তার