যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ বন্দী করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর রয়টার্সের।
১৯৮৯ সালে সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পানামা আক্রমণের পর থেকে আমেরিকা লাতিন আমেরিকায় সরাসরি এ ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-রাষ্ট্র’ পরিচালনা এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে। ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতায় আসা ভেনেজুয়েলার নেতা বলেছেন যে, ওয়াশিংটন তার বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী করাকাসে আজ মধ্যরাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় প্রায় দুইটা নাগাদ শুরু হওয়া এই ঘটনায় শহরের বিভিন্ন অংশে বিমানের নিচু উচ্চতায় উড়ান, কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি এবং উজ্জ্বল কমলা আলো দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলেছে, যার ফলে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
করাকাসের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বডড়ো সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট তিউনার কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধোঁয়া ও আগুনের দৃশ্য দেখা গেছে, যার মধ্যে লা কার্লোটা বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক কমপ্লেক্স থেকে উঠতে থাকা কালো ধোঁয়া উল্লেখযোগ্য।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর সামরিক আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক জরুরি ঘোষণায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র করাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এটিকে তারা সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ এবং দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। সরকার জনগণকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনা গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান উত্তেজনার চরম পর্যায়। যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে এবং মাদক পাচারের অভিযোগে বহু নৌকায় হামলা চালিয়েছে।
এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনের আহবান জানিয়েছেন।
