ইরানে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ক্ষত এখনো শুকায়নি। তেহরানের রাজপথে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এলেও, জনমনে এখন এক গভীর অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে ইরান সরকারের কঠোর হুংকার, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি- এই দুই শক্তির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ইরানিরা।– খবর সিএনএন
কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমনের চিহ্ন এখনো মানুষের স্মৃতিতে তাজা। এর মাঝেই তেহরানের আকাশজুড়ে এখন যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো ‘আর্মাডা’ বা রণতরি বহর এখন ইরানের দোরগোড়ায়। রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ এখন তেহরানের লক্ষ্য সীমার মধ্যে অবস্থান করছে।

তেহরানের এঙ্গেল্যাব (বিপ্লব) চত্বরে ইরান সরকার এক বিশাল পোস্টার টাঙিয়েছে, যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি মার্কিন রণতরির ছবি দিয়ে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে- বাতাস রোপণ করলে ঘূর্ণিঝড়ই কাটতে হবে। অন্য একটি পোস্টারে দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ছবি। এই পোস্টারগুলো মূলত বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের হার না মানা মানসিকতা প্রদর্শনের হাতিয়ার।
রাজপথের সাধারণ ইরানিরা বুঝতে পারছেন না কার ওপর ভরসা করবেন। তরুণ তেহরানবাসী মাহসান সিএনএন’কে বলেন, আমার মনে হয় তারা সবাই সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে একজোট। আমাদের জন্য ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে মেহেদী আকবরী নামের এক বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্প আসলে যুদ্ধ করবেন না, তিনি শুধু ভয় দেখাচ্ছেন বা ‘ব্লাফ’ দিচ্ছেন।

যুদ্ধের হুমকির চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের অর্থনীতি। মঙ্গলবার দেশটির মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মান রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৫ লক্ষ রিয়াল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
দীর্ঘদিন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার পর সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় মানুষ এখন জানতে পারছে বিক্ষোভে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র। আরশাম নামের এক তরুণ বলেন, পরিস্থিতি এত খারাপ ছিল যে দৈনন্দিন কাজের জন্য বের হওয়া দুষ্কর ছিল। ইন্টারনেট আসার পর আমরা জানতে পারছি আসলে কত মানুষ মারা গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের আঙুল এখন ‘ট্রিগারে’। যে কোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলোচনা বা হামলা- দুই পথই খোলা রেখেছেন বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পকে এই হামলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, কারণ যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তেহরানের এই থমথমে ভাব নির্দেশ করছে, ইরান এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সামরিক চাপ- এই দ্বিমুখী সংকট থেকে উত্তরণের পথ সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অজানা।
মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘আর্মাডা’, উচ্চ সতর্কতায় ইরান
ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতসহ পাঁচজনের মৃত্যু