পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জের আকাশ তখন বসন্তের আমেজে মাতোয়ারা। সেই আকাশের নীল দিগন্তে ডানা মেলল একটি হলুদ ঘুড়ি। ছাদের ওপর লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন আমির খান।
এই দৃশ্য দেখে মুহূর্তের জন্য স্থানীয়দের মনে পড়ে গেল ‘১৯৪৭ আর্থ’ ছবির সেই জনপ্রিয় গান- ‘রুথ আ গায়ী রে...’। তবে এটি সিনেমার শুটিং নয়, বরং বাস্তবে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে বলিউডের সুপারস্টার আমির খানের এক ঘরোয়া ‘সারপ্রাইজ’ সফরের খণ্ডচিত্র।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কোনো আগাম ঘোষণা বা প্রটোকল ছাড়াই জিয়াগঞ্জের অরিজিৎ সিংয়ের বাড়ির গলিতে দেখা যায় আমির খানকে।
বম্বার জ্যাকেট আর জলপাই রঙের ট্রাউজারে আমিরকে দেখে প্রথমে চমকে যান প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর আর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে অরিজিতের বাড়ির সামনে জনস্রোত তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করতে হয় স্থানীয় পুলিশ বাহিনী।
আমির খানের এই আচমকা সফর ঘিরে বিনোদন জগতে জল্পনা এখন তুঙ্গে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর শোনার পর আমির নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাকে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে এসেছেন।
আমিরের বিশ্বাস, সংগীত জগতে অরিজিতের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন আমিরের পরবর্তী বিগ-বাজেট প্রজেক্টে অরিজিতের কাজের বিষয়েও এই দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।

জিয়াগঞ্জের মেজাজে আমির নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছিলেন। দুপুরে অরিজিতের বাড়িতে পাত পেড়ে খেয়েছেন নিপাট বাঙালি খাবার।
মেনুতে ছিল বাসমতি ভাত, বাটার নান, চিকেন কষা, মাটন কষা, মিক্সড ভেজ ও পনির বাটার মশলা। বিকেলের পড়ন্ত রোদে ছাদে ঘুড়ি ওড়ানোর পর সন্ধ্যার সময় অরিজিতের স্টুডিওতে দুই তারকার দীর্ঘ আড্ডা জমে ওঠে। গভীর রাতে আমির বহরমপুরের একটি হোটেলে বিশ্রামের জন্য চলে যান।
বর্তমানে অরিজিৎ সিং কেবল গায়ক হিসেবে নয়, চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজেও মনোনিবেশ করেছেন। এর মাঝে আমিরের মতো একজন সংবেদনশীল অভিনেতার সফর কি নতুন কোনো সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে? দুই তারকাই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, জিয়াগঞ্জের এই মিলনমেলা বলিউডের জন্য বড় কোনো চমক বয়ে আনতে পারে বলেই মনে করছে ভক্তকুল।
তিনটি গ্রামি জিতে ব্যাড বানি বললেন ‘আমরা পশু নই, মানুষ!’