মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলার ফলে বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে গেছে এবং জ্বালানি অবকাঠামো নতুন করে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুই প্রধান শহরের কর্মকর্তারা জানান, এই হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছে। আরব আমিরাতে প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ নিরসনে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ঠিক আগের দিন এই হামলা চালানো হলো।
কিয়েভে যখন রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে প্রায় মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল, তখন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্যরাতের পর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। তারা জানান, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রাম অ্যাপে জানিয়েছেন, কিয়েভের পাঁচটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনটি আবাসিক ভবন এবং একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল হামলার কবলে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলার একটি ফ্ল্যাট দাউ দাউ করে জ্বলছে। সেখানে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর ওপর দফায় দফায় চালানো বড় ধরনের হামলায় শত শত আবাসিক ভবনের বিদ্যুৎ ও হিটিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার পর্যন্ত জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো এসব হিটিং ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, হামলাগুলো মূলত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় হিটিং সিস্টেমগুলো যাতে জমে অকেজো না হয়ে যায়, সেজন্য তিনি কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি মাত্র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ পাওয়া ৮২০টি আবাসিক ভবনের কুল্যান্ট বা শীতলীকারক তরল বের করে নেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তেরেখভ টেলিগ্রামে লেখেন, লক্ষ্যটি স্পষ্ট- প্রচণ্ড শীতের মধ্যে সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং শহরটিকে উত্তাপহীন করে ফেলা। রুশ হামলায় খারকিভ অঞ্চলের ইজিউম ও বালাক্লিয়া শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরের শহর সুমিতে দুটি আবাসিক ভবনেও হামলা হয়েছে।

এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন- উভয় পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার বিষয়ে একটি সাময়িক চুক্তির আলোচনা করছিল। রাশিয়া জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ গত রোববার শেষ হয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে যে এটি ৩০ জানুয়ারি থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
এর আগে সোমবার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বিগত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে লক্ষ্যভেদ করেনি, তবে সম্মুখ সমরের কাছাকাছি থাকা জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে রাশিয়ার অবিরাম গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।
শুল্ক কমালো ট্রাম্প প্রশাসন, স্বস্তিতে মোদীর ভারত
এপস্টাইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন