যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফেরার মুহূর্তে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ইরান একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ আসতে বাধ্য হবে। তবে এই সম্ভাবনা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রবল সংশয় প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে নিজের বিমানে ওঠার আগে নেতানিয়াহু বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং অকৃত্রিম। গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটি ছিল দুই নেতার সপ্তম বৈঠক।

নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক উত্তপ্ত সময়ে হলো যখন ইরান গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ট্রাম্প তেহরানকে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। জবাবে ইরানও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রে ইরান থাকলেও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইরান এখন বুঝতে পেরেছে তারা কার সঙ্গে ডিল করছে। তিনি মনে করেন, আগেরবার চুক্তি না করে তেহরান যে ভুল করেছে, এবার সেই শিক্ষা থেকেই তারা নতি স্বীকার করবে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় ইরানের জন্য পরিস্থিতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মাত্র এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প আশাবাদী হলেও নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যে কোনো চুক্তিতে শুধু পরমাণু ইস্যু থাকলে চলবে না; বরং এতে ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ছায়াসঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর লাগাম টানার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো 'মিডনাইট হ্যামার' হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের প্রথমবারই চুক্তিতে আসা উচিত ছিল। যদি এবারও সঠিক ও ন্যায্য চুক্তি না হয়, তবে তাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
নেতানিয়াহু ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় 'বোর্ড অফ পিস' বা শান্তি পরিষদের উদ্বোধনী সভায় যোগ দিচ্ছেন না। তিনি ইসরাইল থেকেই ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। যদিও তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় শান্তি পরিষদে যোগ দেয়ার দলিলে সই করেছেন, তবে গাজা ইস্যুতে তুরস্ক-কাতারের মতো দেশগুলোর সম্পৃক্ততা থাকায় তিনি সম্মেলন এড়িয়ে চলছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
সংসদ নির্বাচনে ফলের সরকারি গেজেট কবে, যা জানা গেলো