কট্টর ইহুদিদের ধাওয়া থেকে কোন মতে বেঁচে গেছেন ইসরাইলের দুই নারী সেনা। দেশটির তেল আবিবের কাছেই বনেই ব্রাক শহরে দুই নারী সেনাকে উগ্রপন্থী আল্ট্রা-অর্থোডক্স (হারেদি) ইহুদি পুরুষদের একটি বিশাল দল তাড়া করার পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করেছে। সেনাবাহিনীতে যোগদানের বাধ্যতামূলক আদেশের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই দুই নারী সেনা দাপ্তরিক কাজে অন্য এক সেনার বাড়িতে যাওয়ার সময় একদল হারেদি ইহুদি পুরুষ তাঁদের ঘিরে ফেলে। বিক্ষোভকারীরা ভুলবশত মনে করেছিল, ওই নারী সেনারা তাঁদের সম্প্রদায়ের পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার নোটিশ দিতে এসেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, আবর্জনা ও উল্টানো ডাস্টবিনের স্তূপের মধ্য দিয়ে দুই নারী সেনা প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছেন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা ঢাল হয়ে তাঁদের রক্ষা করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালালে তিন কর্মকর্তা আহত হন। হামলাকারীরা টহল গাড়ি উল্টে দেয় এবং একটি পুলিশ মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, এটি একটি চরমপন্থী সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যারা পুরো হারেদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ক্ষতি বরদাশত করা হবে না। এছাড়া ধর্মীয় নেতারাও এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় (ইয়েশিভা) নিয়োজিত আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিরা বাধ্যতামূলক সেনাসেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছিল।

তবে গত এক দশকে দেশটির উচ্চ আদালত এই অব্যাহতিকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। বর্তমানে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি সরকার এমন একটি আইন নিয়ে কাজ করছে, যেখানে পূর্ণকালীন ধর্মীয় অধ্যয়ন না করা আল্ট্রা-অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার বর্তমানে প্রায় ১৪ শতাংশই আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি। গত সাত দশকে তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল জনসমষ্টির সেনাসেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরাইলি জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
গত বছরের শেষ দিকেও এই আইনের প্রতিবাদে হাজার হাজার আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল। বনেই ব্রাকের এই ঘটনাটি ইসরায়েলি সমাজের অভ্যন্তরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
ইমরান খানকে নিয়ে লুকোচুরি, জীবন নিয়ে শঙ্কায় পিটিআই