যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথে আলোচনা চালিয়ে যাবেন নাকি সামরিক হামলার নির্দেশ দেবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একটি চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়সীমার মধ্যেই ইরানের চারপাশে সামরিক সজ্জার কাজ শেষ করে ফেলতে পারবে পেন্টাগণ। এরিমধ্যে পথে রয়েছে সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবহর জেরাল্ড ফোর্ড।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে তাঁর গঠিত ‘শান্তি পরিষদ’-এর প্রথম সভায় ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তারা চুক্তি না করে, তবে অত্যন্ত খারাপ কিছু ঘটবে।
ইরানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের হয়তো এখন অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই আপনারা সম্ভবত তা জানতে পারবেন।
গত জুনে পরিচালিত মার্কিন বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘ধ্বংস’ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, আমাদের হয়তো আরেকটি পদক্ষেপ নিতে হবে, অথবা হয়তো হবে না। এবার ইরানের শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিষয়টির সাথে পরিচিত এবং সিবিএস নিউজকে দেওয়া সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, শনিবার থেকেই ইরানের ওপর হামলার জন্য সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সময়সীমা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিবিএস’কে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ, হোয়াইট হাউস বর্তমানে সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি এবং হামলা না করার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। এছাড়া, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ব্যাপী চলা পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকেও ট্রাম্প ব্রিফিং নিয়েছেন; যদিও ওই আলোচনা থেকে কোনো চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সমস্ত মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে পৌঁছে যাবে। বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ওই অঞ্চলে আরও বেশ কিছু রণতরি মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে লোহিত সাগরে তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে উপসাগরীয় অঞ্চলে দুটি ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে।
চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে বোমা মারার হুমকি ট্রাম্প বারবার দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং দাবি জানিয়েছে যে, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করতে হবে।
একই সাথে ওয়াশিংটন দাবি করছে যে, ইরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে শক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইরান-মার্কিন রণক্ষেত্রে কি ‘বলির পাঁঠা’ হবে লেবানন?
যুদ্ধের আশঙ্কায় বাগদাদকে ব্যবহারের ছক তেহরানের
ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বাড়তি সুরক্ষা