ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রমতে, মঙ্গলবার ভোরে বাগদাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে শহরের মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট এবং কমপক্ষে পাঁচটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও তীব্র আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দূতাবাসের উপর নির্বিঘ্নে ড্রোনের ঘোরাঘুরির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী কমপক্ষে তিনটি ড্রোনকে দূতাবাসের দিকে উড়ে যেতে দেখেন। তিনি জানান, দূতাবাসের 'সি-র্যাম' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে দুটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করলেও তৃতীয়টি দূতাবাস চত্বরের ভেতরে আঘাত হানে। হামলার পর সেখান থেকে আগুন ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে উঠতে দেখা গেছে।
রয়টার্সের আরেক প্রতিনিধি জানান, ইরাকের রাজধানীতে এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই হামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন দূতাবাসের মোবাইল ফোনগুলো তখন বন্ধ পাওয়া যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে এর প্রতিশোধ নিতে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে আসছে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা। গত সোমবার ইরান-পন্থী গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’ তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও মুখপাত্রের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। একইসাথে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ জানিয়েছে, সিরিয়া সীমান্তের কাছে ইরাকের আল-কায়েম শহরে বিমান হামলায় তাদের অন্তত আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী । এছাড়া সরকারি ভবন এবং মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন অবস্থিত বাগদাদের সুরক্ষিত 'গ্রিন জোন' এলাকাটি সাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পাল্টায় বিস্মিত ট্রাম্প, গোয়েন্দা সূত্রের ভিন্ন দাবি