টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। জাতিসংঘ সমর্থিত ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এ ১৪৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই নর্ডিক রাষ্ট্রটি। খবর বিবিসির।
শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে তালিকার তলানিতে রয়েছে আফগানিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুখী দেশের তালিকায় গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ১২৭তম অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান।
প্রতিবারের মতো এবারও তালিকার শীর্ষ দশে আধিপত্য বজায় রেখেছে নর্ডিক দেশগুলো। ফিনল্যান্ডের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। তৃতীয় স্থানে ডেনমার্ক। তবে এ বছরের সবচেয়ে বড়ো চমক দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। গত বছরের ২৩তম অবস্থান থেকে এক লাফে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তালিকার শীর্ষ ১০টি দেশ হলো যথাক্রমে— ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, কোস্টারিকা, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরাইল, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ড।
এ বছরের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের তরুণ প্রজন্মের (২৫ বছরের নিচে) মধ্যে সুখের মাত্রা গত ১৫ বছরের তুলনায় অনেকটা কমেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার তরুণদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। বিশেষ করে কিশোরীদের ওপর অ্যালগরিদম-নির্ভর অ্যাপগুলোর নেতিবাচক প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা দিনে এক ঘণ্টার কম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তারা তুলনামূলক বেশি সুখী।
দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল (৯৯তম) এবং পাকিস্তান (১০৪তম) সুখের সূচকে ভারতের (১১৬তম) চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার অবস্থান ১৩৪তম। অন্যদিকে, তালিকার একেবারে শেষে ১৪৭তম অবস্থানে থাকা আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে ‘অসুখী’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মূলত ছয়টি প্রধান মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। সেগুলো হলো—মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সুরক্ষা, গড় আয়ু, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতির হার। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার এবং গ্যালপ ওয়ার্ল্ড পোলের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের এই সাফল্যের রহস্য হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানকার শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক দেশটিকে টানা ৯ বছর শীর্ষস্থানে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
