হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান এই সময়ের মধ্যে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্প তার হুমকি কার্যকর করলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন অবকাঠামো এবং মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে। পাল্টাপাল্টি এই হুঁশিয়ারিতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে বড় ধরনের ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চরমপত্র জারি করেন। এর ঠিক পরেই রোববার (২২ মার্চ) তেহরান সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, তারা মার্কিন মেরিন সেনাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
বাজার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘টিকিং টাইম বোম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইজি-র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর সতর্ক করেছেন যে, এই ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রত্যাহার করা না হলে সোমবার বিশ্ব শেয়ার বাজারে ‘ব্ল্যাক মানডে’-র মতো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ইতিমধ্যে শুক্রবার তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানের অবরোধের কারণে এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ইউরোপে গ্যাসের দাম একলাফে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো ইরানের তেলক্ষেত্র ধ্বংস না করে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দিয়ে তেহরানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার তেহরান চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তাদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। ইসরাইল সামরিক সূত্রের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আওতায় এখন বার্লিন, প্যারিস ও রোমের মতো ইউরোপীয় রাজধানীগুলোও রয়েছে।
অপরদিকে, রোববার দক্ষিণ ইসরাইলে ইরানি হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী তেহরানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের এই নতুন আলটিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
