ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার ২৬তম দিনে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সেনাদল মোতায়েনের প্রতিটি পদক্ষেপ ইরান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি পেন্টাগন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর প্রায় ২,০০০ সেনাকে এই অঞ্চলে পাঠানোর খবরের প্রতিক্রিয়ায় কলিবাফ এই মন্তব্য করেন। মার্কিন জেনারেলদের ব্যর্থতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বেশ চাঁছাছোলা ভাষায় লেখেন, জেনারেলরা যা ধ্বংস করেছেন, সাধারণ সেনারা তা মেরামত করতে পারবে না; বরং তারা শুধু নেতানিয়াহুর অলীক মরীচিকার শিকারে পরিণত হবে। আমাদের ভূমি রক্ষার সংকল্পকে পরীক্ষা করতে আসবেন না।

এই কূটনৈতিক বাদানুবাদের সমান্তরালে রণক্ষেত্রেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইরানের নৌবাহিনী এক বড় সামরিক অভিযানের দাবি করেছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্ট্রাইক গ্রুপকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই হামলার মুখে মার্কিন নৌবহরটি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলোচনার যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ৫ দিনের আলোচনার সময়সীমা মূলত একটি কৌশল বা ‘কভার আপ’ হতে পারে, যার আড়ালে আমেরিকা বড় ধরনের কোনো সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে চলছে কূটনৈতিক দাবার চাল আর অন্যদিকে সমুদ্র ও আকাশে গর্জে উঠছে ক্ষেপণাস্ত্র।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রায় দুই হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার