মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য: মাহদী আমিন

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন।  

সোমবার (২২ জুন) কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই হচ্ছে। এই প্রসিজিউরের ভেতরে আমরা ইকোনমিক লিবারালাইজেশন ও ডি-রেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি। এর মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা। মালয়েশিয়া সেই দিক থেকে বড় লক্ষ্যের জায়গা।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পাঁচটির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল মার্কেট-বেজড অর্থনীতি রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে বড় ধরনের ভোক্তা চাহিদা (কনজিউমার ডিমান্ড) বিদ্যমান, যা মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীরা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের এক অবারিত সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, একদিকে যেমন আমাদের বাজারের চাহিদা অনেক বেশি, অন্যদিকে তেমনি দক্ষ কর্মী দিয়ে তা সচল রাখার পূর্ণ সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে, মালয়েশিয়া যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একই সাথে, নিয়মকানুন সহজীকরণের (ডি-রেগুলেশন) মাধ্যমে আমরা একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করব।

মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন,এ সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরও বেগবান করা।  

প্রধানমন্ত্রী যেসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেগুলো হলো- পেট্রোনাস গ্রুপ, আজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পেরোডুয়া ও এমএমসি ফোর্স।

মাহদী আমিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো কীভাবে শক্তিশালী ও জোরদার করা যায়, সেটিকে নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্র সুবিস্তৃত আলোচনা করেছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।

আরবিএস
সচিব জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে এই সুযোগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক ও জোরালো কূটনীতির ফলে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক বিরল ইতিহাস গড়েছেন। এ বিশ্ব সংস্থার সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি তাঁর প্রথম ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন।তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। এই নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর