গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি

দখল হুমকির অবসান!

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত বহুল আলোচিত কূটনৈতিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এক যৌথ সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক দখলের সামরিক হুমকি দেওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যে উত্তেজনা চলছিল, এই চুক্তি তার অবসান ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রকার আর্থিক ব্যয় ছাড়াই গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সামরিক প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তির শর্তানুযায়ী মার্কিন সরকারের লিখিত অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

চুক্তিটিকে উত্তর আটলান্টিক ও আর্টিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন নিশ্চিত করেছেন যে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।


তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা ডেনমার্ক সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই যৌথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আইনসভায় বা পার্লামেন্টে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ড সরকারের চেয়ারম্যান জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে, এটি গ্রিনল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং স্বার্থের স্বীকৃতি প্রদান করে, যা সব পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

যদিও চুক্তির সম্পূর্ণ খসড়া বা মূল পাঠ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ডের পূর্বানুমতি ছাড়াই নতুন সামরিক অবকাঠামো তৈরি করতে পারবে এবং স্থায়ীভাবে বিমান পরিচালনা, ঘাঁটি স্থাপন ও গমনাগমনের অধিকার লাভ করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভবিষ্যৎ কোনো এক সময়ে গ্রিনল্যান্ড যদি ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশও করে, তবুও এই চুক্তির কার্যকারিতা ও মেয়াদ শেষ হবে না।

এই সমঝোতার মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের গতিবিধির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চুক্তিটি ন্যাটো বহির্ভূত কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণে বাধা দেবে এবং সংবেদনশীল খাতগুলোতে শত্রুভাবাপন্ন দেশের বিনিয়োগ বন্ধ নিশ্চিত করবে। অতীতে যাচাই বাছাই ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগের যে সুযোগ ছিল, নতুন ব্যবস্থার ফলে তা সম্পূর্ণ রুদ্ধ হবে।


তবে বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির সাথে এই নতুন চুক্তির পার্থক্য কতটা গভীর, তা পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। পূর্বের চুক্তির আওতায় এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন ও সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রায় পূর্ণ অধিকার ছিল।

কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও খনিজ সম্পদের দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই অঞ্চলটিকে অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছিলেন।

একই সাথে স্মার্টফোন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত দুর্লভ বিরল-মৃত্তিকা খনিজের বিশাল অনুদ্বাঘটিত মজুদ রয়েছে দ্বীপটিতে। ইতোপূর্বে ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি ক্রয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি বিশ্ব রাজনীতি ও ন্যাটো মিত্রদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরিত না হলেও, আর্টিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান বহুগুণে সুদৃঢ় হলো।

তথ্যসূত্র: বিবিসি-রয়টার্স

 

একাত্তর/এআরএস
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের গ্রামীণ আকাশে প্রশিক্ষণ চলার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হঠাৎ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে পাইলট সময়মতো বিমান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়ায়...
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত যখন এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতার মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম হুঙ্কার ছেড়ে জানিয়েছেন, তিনি ইরানি শাসন ব্যবস্থাকে...
ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে ‘শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্ন’—এমন বার্তা দিয়ে শুরু হয়েছে বড় পরিসরের ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ মহড়া।
ইরানে চলমান মার্কিন আগ্রাসনে কয়েকটি ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশন।
সংসদে সহায়তার কথা বললেও বাইরে গিয়ে সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করার জন্য বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার প্রশ্ন, ছয়...
জনগণের প্রয়োজনে আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট...
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক...
আতিথেয়তা খাতে খাদ্য খরচ ব্যবস্থাপনাকে আরও সাশ্রয়ী, সুসংগঠিত ও টেকসই করার লক্ষ্যে উদ্ভাবিত ‘শাখাওয়াত’স সিক্স পয়েন্ট কন্ট্রোল পয়েন্ট অর ফুড কস্ট অপ্টিমাইজেশন’ কাঠামোর জন্য সরকারের কপিরাইট কার্যালয়...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর