হাত ছাড়া জন্মেও থামতে শেখেননি হেলাল

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩, ১০:৫৫ এএম

গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে কিছুটা এগিয়ে সুলতান মার্কেটের সরু গলিতে ঢুকলে অন্য রকম এক দোকানির সাথে দেখা হয়ে যাবে আপনার।

প্রথম দেখায় কিছুটা চমকে উঠতে পারেন। কারণ হেলাল উদ্দিন অন্যদের মতো হাত বাড়িয়ে পণ্য তুলে দিতে পারেন না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত নেই।

হেলাল এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি বাঙলা কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। ক’দিন হলো ঢাকায় এসেছেন। ফাঁকে এখন ভাইয়ের ব্যবসা সামলাচ্ছেন।

যশোরের কন্দর্পপুর গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্মেছেন দুই হাত ছাড়া হেলাল। বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। সন্তানের বিষয়ে কখনও তার বাবা-মা হতাশ হননি। বরং প্রতিবেশীসহ অন্যদের তারা বোঝাতেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে হেলালও অন্যদের মতো সুন্দর জীবনে বেড়ে উঠতে পারে।

‘পাড়া-প্রতিবেশীরা বাবা-মাকে মাঝে মাঝে কিছু বলার চেষ্টা করতো, কিন্তু তারা কানে নিতেন না’, বলেন হেলাল। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে তৃতীয়।

হেলালকে হাঁটা শিখিয়েছেন তার বড় ভাই আব্দুর রহমান সবুজ। কিন্তু সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ বছর। অন্য শিশুরা যখন ছোটাছুটি করতো তখনও হেলাল উঠানে হামাগুড়ি খেতো। সাত বছর বয়সে বাবার কোলে প্রথম স্কুলে যান হেলাল। নতুন বন্ধু হয়। খেলতে শিখেন।

বাড়ি থেকে মাইল তিনেক দূরে হেলালের স্কুলে বন্ধুরা যখন সাইকেল চালিয়ে যেতো, হেলাল একা একাই হেঁটে পাড়ি দিতেন পুরো পথ।

তিনি সাইকেল চালাতে পারতেন না। ‘অন্যরা যখন সাইকেলে যেতো, আমি চেয়ে থাকতাম। মনে হতো- ইশ্ আমি যদি যেতে পারতাম। আমার যদি একটা সাইকেল থাকতো, যদি চালাতে পারতাম’, আফসোস করে বলেন হেলাল।

আরও পড়ুন: চাকরি হারিয়ে সুরের ফেরিওয়ালা মামুন

দেখতে দেখতে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলো। মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হলেন। উচ্চ-মাধ্যমিকে ভর্তি হলেন সরকারী বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ কলেজে।

‘পরীক্ষার হলে যখন অন্যরা দুই-তিনটা করে প্রশ্ন লিখে ফেলতো আমি একটা বা অর্ধেক শেষ করতাম। সৃজনশীল আসার পর থেকে লেখা বেড়ে গেলো। সবাই লিখে অতিরিক্ত পৃষ্ঠা নিতো, আমি কখনো তা পারিনি। আমার জীবনে কখনো পরীক্ষায় আমি পুরো খাতা শেষ করতে পারিনি।’ আক্ষেপ নিয়ে বলেন হেলাল।

উচ্চ মাধ্যমিকে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া খারাপ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার তখনো লেখা বাকি। অর্ধেকের একটু বেশি হয়েছে বোধ হয়। স্যার এসে খাতা টেনে নিয়ে গেলো। আমাকে বললেন, যা লিখেছো পাস করবা। কখনো কখনো আমি ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ হওয়ায় অনেক স্যার-ম্যামরা ২০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু ওই পরীক্ষাটা আমার খুবই খারাপ হয়। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করলে ভালো হতো।’

‘আমি চাই আমার মতো আরো যারা আছেন, তারা সমস্যায় না পড়ুক। আমাদের জন্য বিশেষভাবে বিবেচনা করা হোক।’

উচ্চ মাধ্যমিকের পর এবার স্নাতকের গণ্ডি পার করে আরো এগিয়ে যেতে চান হেলাল। বলেন, ‘মায়ের জমানো টাকা দিয়ে কোচিং করেছি। অনেক কষ্টে মা টাকাগুলো সঞ্চয় করেন। ঢাকাও আসতে দেয়নি সে সময়। আমি অন্যদের সাথে মিশতে পারবোনা সেই ভয়ে। এখন আমি বাঙলা কলেজে চান্স পেয়েছি, ভালো কিছু করতে চাই।’

হাত না থাকলেও অন্যদের মতো স্বপ্ন দেখেন হেলাল। কাজ করতে চান নিজের মতো বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য। শিক্ষক হয়ে ছড়িয়ে দিতেন চান জ্ঞানের আলো। নিজ উপার্জনে বাবার সাথে রোজ দু’মুঠো ভাত খেতে চান তিনি।

 

একাত্তর/আরএ

গাজীপুর মহানগরের সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি ও দুইটি প্রাইভেটকারসহ এক অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ অন্তত অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে প্যানাসিয়া ক্লোদিং নামের ওই কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে ১৬...
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে মা, তাঁর তিন সন্তান এবং তাঁর ভাইয়ের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার...
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় একই পরিবারের তিন শিশু, এক নারী ও এক যুবকসহ পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউৎকোন গ্রামের ওই বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্নত চিকিৎসার অভাবে যখন তার জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ, ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।  
গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ, অতীতের গুমের ঘটনা তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর