গুলশানের শহীদ তাজউদ্দীন পার্কের সবুজ নষ্ট করে তৈরি হয়েছে নানান স্থাপনা। পার্কের নকশা করা প্রকৌশলীও বলছেন, নকশার বাইরে নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পার্কটি আবারও দখলদারদের হাতে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও উত্তরের মেয়র বলছেন, পার্কের পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
চঞ্চল প্রজাপতির আনাগোনা আর পাখিদের এমন অবাধ বিচরণ ইট-পাথরের এই নগরীতে বিরল। একাধারে ফুটে আছে আকন্দ-জারুল। অনেকের কাছেই ফুলগুলো অপরিচিত। এমন নানা ঔষধি গাছের সমারোহ। তপ্ত বৈরী আবহাওয়ায় যেনো প্রকৃতির ছায়া হয়ে আছে ফলজ গাছগুলো।
এ পরিবেশের দেখা মিলবে গুলশান শহীদ তাজউদ্দীন পার্কে। তবে পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের অভিযোগ পার্কের এমন পরিবেশে বাধা তৈরি করেছে ইট-পাথরের নানা স্থাপনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, খেলার মাঠ ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ক্রিকেট একাডেমি। সেখানে আবার সবার প্রবেশাধিকার নেই। চলছে টার্ফ বসানোর কাজ। এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সহ-সভাপতি মাহবুব সিদ্দীক বলেন, একেকটা পার্ক আমাদের বাসার ফ্যান বা এসির মতো। এগুলো যদি আমরা ঠিকভাবে রক্ষা না করি, তা আমাদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন -বাপার সহ-সভাপতি ইকবাল হাবিব বলেন, জনগণের পার্ককে তার সবুজায়ন ধ্বংস করে এর দখল নেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আমরা এসেছি।

তবে পার্কের পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না দাবি করে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলছেন, স্থানীয়দের খেলার জন্যই টার্ফ বসানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ওখানে বাচ্চাদের খেলার জন্য একটা ইন্টারন্যাশনাল মাপের টার্ফ করে দিচ্ছি। এটা দখল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তবে এসব বাণিজ্যিক কার্যক্রম পার্কের মূল উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ২০২.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৮ দশমিক ৩ হাজার ৪৭২ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ স্মৃতি পার্ক।
তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ