রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকায় পুলিশের গুলিতে আরেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য চলছে। নগরীর অভিজাত এলাকায় রাতের আঁধারে এমন নৃশংস ঘটনায় সবাই হতবিহ্বল। কি কারণে একজন পুলিশ কনস্টেবল তারই সহকর্মীকে গুলি করে ঝাঁঝরা করলেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই। পুলিশের আশা, তদন্তেই জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
শনিবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল কাওসার আলীর ছোড়া গুলিতে নিহত হন কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম। এ সময় দুই পুলিশ কনস্টেবল ফিলিস্তিন দূতাবাসের বাইরে অবস্থিত পুলিশ বক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দায়িত্ব পালনের সময় কিছু একটা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল হককে খুব কাছ থেকে গুলি করেন আরেক কনস্টেবল কাওসার আহমেদ। গুলি করার সময় তার অস্ত্রের একটা ম্যাগাজিন খালি হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন লাগিয়ে গুলি করেন।
কনস্টেবল কাওসার আহমেদ সাব মেশিনগান দিয়ে দুটি ম্যাগাজিনের ৩৮ রাউন্ড গুলি চালান। কনস্টেবল মনিরুল ইসলামের দেহ তাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, কনস্টেবল কাওসার সাব মেশিনগান এসএমটি-৯ দিয়ে কনস্টেবল মনিরুলের দেহে গুলি করেন। গুলি করার সময় তার অস্ত্রের একটা ম্যাগাজিন খালি হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন লাগিয়ে গুলি করেন। এই সময় তার অস্ত্রের একটা ম্যাগাজিন খালি হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন লাগিয়ে গুলি করেন।
শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ফিলিস্তিন দূতাবাসের উত্তর পাশের গার্ডরুমের বাইরে ওই ঘটনা ঘটে। এলোপাতাড়ি গুলির মধ্যে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় জাপান দূতাবাসের গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেন শাহরুখও গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, বারিধারায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের পুলিশ বক্সে কনস্টেবল কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম সাড়ে তিন মাস এবং কনস্টেবল কাওসার আহমেদ ১ বছর ১০ মাস ধরে কর্মরত ছিলেন।
গুলশান থানার ওসি বলেন, টরাস এসএমটি সাব-মেশিন গান দিয়ে কাওসার গুলি করেছেন। তার কাছে দুটি ম্যাগাজিন ছিলো। প্রতিটা ম্যাগাজিনে ৩০টি করে ৬০ রাউন্ড গুলি থাকে। একটা শেষ হওয়ার পর আরেকটা ম্যাগাজিন অস্ত্রে লাগিয়ে আট রাউন্ড গুলি করে। পরের ম্যাগাজিন থেকে ২২টি তাজা গুলি পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ব্রাজিলীয় কোম্পানি টরাস আর্মসের তৈরি। প্রায় ১২ বছর আগে টরাস এসএমটি পুলিশের হাতে আসে। সাধারণ দায়িত্বে এই ধরনের অস্ত্র পুলিশের হাতে দেখা না গেলেও, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশকে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রও দেওয়া হয়।
ওসি জানান, নিহত মনিরুলের কাছে চায়নিজ রাইফেল ছিল। সেটা ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ, পাল্টা গুলি করার কোনো চেষ্টা তিনি করেননি বা সুযোগই পাননি। এ ঘটনায় এরই মধ্যে কনস্টেবল কাওসারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহত মনিরুলের ভাই।
মনিরুলকে গুলি করার পর হাঁটাহাঁটি করছিলেন কাওসার!