শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। যাত্রীচাপ কম থাকার অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লঞ্চ বসিয়ে রাখছেন মালিকেরা। বিআইডব্লিউটিএ-এর তদারকির অভাবে সাধারণ যাত্রীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে ঈদযাত্রার শেষ দিনে এসে সদরঘাটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। বিগত কয়েক দিনের তুলনায় শুক্রবার (২০ মার্চ) যাত্রীচাপ কিছুটা কম থাকার সুযোগে অনেক লঞ্চ নির্ধারিত সময়ে ঘাট ছাড়ছে না। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে লঞ্চ স্টাফদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে রাখার পর বিআইডব্লিউটিএ-এর অনুমতির দোহাই দিয়ে কয়েকটি লঞ্চ থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেক লঞ্চ যাত্রী পূর্ণ হওয়ার পরও অতিরিক্ত যাত্রীর আশায় ঘাটে ভিড় করে বসে আছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
লঞ্চ মালিকদের দাবি, প্রতিটি ট্রিপে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ যাত্রী না হলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। লোকসানের এই অজুহাত দেখিয়েই তারা লঞ্চ ছাড়তে দেরি করছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হতে দেখা গেছে অনেক মালিক ও স্টাফকে।
এদিকে সদরঘাটে এমন অনিয়ম চললেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থার কার্যকর নজরদারি চোখে পড়েনি। কর্তৃপক্ষের নিরবতায় লঞ্চ মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ১৬টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। এবারের ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সব মিলিয়ে ১৭০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সেবার চেয়ে ভোগান্তিই এখন যাত্রীদের কাছে বড়ো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
