ঘুষের টাকা বুঝে নিতে প্রয়োজনে ফ্ল্যাট বিক্রি কিংবা বন্ধকের পরামর্শ, বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি- ডেসকোর এক কর্মকর্তার। অতিরিক্ত জরিমানার ভয়ে গ্রাহক পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন কোম্পানিটির কাফরুল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মফিদুল ইসলামকে। অথচ তার হাতে পৌনে তিন লাখ টাকার জরিমানার স্লিপ দেয়া হয়। অবৈধ সংযোগ নিয়ে এই বাণিজ্যে মেতেছেন, ডেসকোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জরিমানার একটি কাগজ দেখাতেই এমন ক্ষেপে যান ডেসকোর কাফরুল সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ বায়েজীদ। তার এই মেজাজ হারানোর কারণ বোঝা দায়, যে কারণে তার কাছে যাওয়া এবার সেই গল্পটা শোনা যাক।

মিরপুর ১১ নম্বরের প্যারিস রোড সংলগ্ন একটি বাসাটিতে অবৈধ সংযোগের লাইন থাকা বাড়িটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ডেসকো। এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো। তবে লাইন কাটার পরই ১০ লাখ টাকা জরিমানার ভয় দেখাতে শুরু করে আলী হোসেন নামে ডেসকোর এক সুপারভাইজার।
পরে এ নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মফিদুল ইসলামের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকায় রফাদফা হয়। ফ্লাট বন্ধক রেখে তাকে সেই টাকা দেন ওই গ্রাহক। পরের দিন জরিমানার কাগজটি ধরিয়ে দেওয়া হয় বাড়ির মালিককে। যেখানে স্পট পাঁচ লাখ নয় দুই লাখ চুরাশি হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন তিনি।

বাকী টাকা গেলো কোথায়? জানতে কাফরুলের ডেসকো কার্যালয়ে মফিদুলের কক্ষে টিম একাত্তর। তার দাবি, অতিরিক্ত কোনো টাকা নেননি তিনি। তবে ব্যাংকে জরিমানার টাকা জমা দিয়েছে কে? এমন প্রশ্নে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন এই কর্মকর্তা।
তবে এই ঘুষ লেনদেনের মধ্যস্ততাকারী সুপারভাইজার আলী হোসেন অকপটেই জানিয়ে দেন মফিদুল ইসলামের মাধ্যমেই টাকা জমা হয়েছে ব্যাংকে। আর সেই স্লিপ, আলীকে দিয়েই গ্রাহকের কাছে পাঠান মফিদুল।
তবে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে যে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা আসছে সেটি নেননি বলে দাবি করেন আলী হোসেন।

বিষয়টি নিয়ে কাফরুল সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ বায়েজিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উল্টো ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বিভিন্ন বস্তিতে তার কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে যে অবৈধ সংযোগ চলছে সে বিষয়েও কোনো কথা শুনতে রাজি নন তিনি।
তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন ডেসকো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বাড়াতে চায় পুলিশ
ফারাক্কা বাঁধ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল