কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভৈরবপুরে পাওনা টাকার জন্য স্কুল শিক্ষার্থীকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার।
ঘটনাটি পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মঙ্গলবার ঘটলেও, সম্প্রতি গাছে বেঁধে রাখার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একাত্তর টেলিভিশনের অনলাইন পোর্টালে খবরটি প্রচার হওয়ার পর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদের নজরে আসার পর তাৎক্ষনিক তিনি জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
আটকরা হলেন, মো. নাহিদুল ইসলাম (২০), মো. নাজমুল হোসেন (২৩) ও জসিমউদ্দিন (২৭)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাটি কুমিল্লা পুলিশ সুপারের নজরে আসার দুই ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত তিনজন আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনাসুত্র: বাবার কাছে পাওনা আদায়ে ছেলেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন
ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থী সাহেদ হোসেন শান্তের পিতা ইউসুফ মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে পাশের গ্রাম ভৈরবপুর এলাকার দুলু মিয়ার ছেলে নাহিদুলের দোকান থেকে একটি খাট বানিয়েছিলেন তিনি।
প্রায় সব টাকা দেয়া হয়ে গেলেও, আর ৪৫০ টাকা বকেয়া থাকার কারণে ঈদের কয়েকদিন আগে নাহিদুল তার বাড়িতে গিয়ে টাকার জন্য গালমন্দ করে। সপ্তাহখানেক পরে টাকা দিয়ে দেয়ার কথা বললেও নাহিদ এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে এক পর্যায়ে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
ঈদের দিন ইউসুফ মিয়ার ছেলে শান্ত বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হলে তাকে তার বন্ধুদের সামনে থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় নাহিদুলসহ আরও কয়েকজন। নাজমুল শান্তকে তার বাড়িতে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে মারধর করে।
খবর পেয়ে থানায় জানানো হলে স্থানীয় ইউপি সচিব ও গ্রাম পুলিশ সেখান থেকে শান্তকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় শুক্রবার (৬ মে) রাতে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের পর তাদের আটক করা হয়।
