গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ‘আলোকিত গোহালা ও সমৃদ্ধ মুকসুদপুর কাশিয়ানী’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। একইসঙ্গে গোহালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেল চারটায় সংগঠনিটর উদ্যোগে গোহালা ইউনিয়নের গোহালা বাজারে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্মৃতি সংঘের অস্থায়ী মিলনায়তনে শহীদ, প্রয়াতসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য সংবর্ধনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়। শহীদ ও প্রয়াতসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও সম্মানিত করা হয়। শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যবর্গ শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। আর কৃতি শিক্ষার্থীদেরও ফুল এবং ক্রেস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সদস্য ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্য আশরাফুল আলম পপলু।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের মুকসুদপুর উপজেলার সাবেক কমান্ডার ফিরোজ খান।
সভাপতিত্ব করেন গোহালা ইউনিয়ন কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মিয়া।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মো. সালাম শেখ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সংগঠক ফারুক বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টুটুল বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিয়া সিরাজুল হক ও মুকসুদপুর উপজেলা কমান্ড নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক গাজী।
এসময় পপলু বলেন, আমরা শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে চাই। একই সঙ্গে তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।

এদিকে সংগঠনটির উদ্যোগে আশরাফুল আলম পপলুকে নিয়ে ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রা’ শিরোনামে এক গণসংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দেশ ও বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা সরকারের অর্জন ও সাফল্য তুলে ধরতে এই অভিযাত্রা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শ্রেণি, পেশা, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ মানবিক সমাজ বিনির্মাণ এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
সোমবার সকাল ৯টায় মুকসুদপুরের গোহালা টি.সি.এ.এল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো মাধ্যমে এই অভিযাত্রার শুরু হয়।
এই অভিযাত্রা গোহালা থেকে শুরু হয়ে সিন্দিয়াঘাট-টেকেরহাট হয়ে দিগনগর গিয়ে সেখানে নিয়ে নির্মিত মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এখান থেকে বরইতলা, বনগ্রাম হয়ে মুকসুদপুর থেকে কাশিয়ানী। এরপর কাশিয়ানী থেকে মুকসুদপুর হয়ে ভাবরাশুর, উজানী, কাশালিয়া, ননীক্ষীর, জলিরপাড়, শান্তিপুর, সুইচগেট, টেকেরহাট, সিন্দিয়াঘাট হয়ে গোহালা। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর পথে পথে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করা ও বিভিন্ন স্থানে পথসভার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
একাত্তর/এসি
