মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় শিশু আতিকা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ মামলার মূল আসামি নাঈম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিহত আতিকার মা আরিফা আক্তার বাদি হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার নাঈম হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—নাঈমের বড়ো ভাই নাজমুল হোসেন, প্রতিবেশী রনি মিয়া এবং গণপিটুনিতে নিহত নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়া।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন জানান, নিহত শিশুর মায়ের দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম জানান, মামলা হওয়ার পরপরই মূল আসামি নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে নাজমুল হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পলাতক আসামি রনি মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে গণপিটুনিতে নিহত নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশু আতিকার মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে। বর্তমানে বনপাড়িল এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বনপাড়িল গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশু আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
