এক সাংবাদিকের ঐকান্তিক চেষ্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতের বিহার রাজ্যের এক নিখোঁজ তরুণ ঘরে ফিরতে পারছেন। ইতোমধ্যে পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দি ওই তরুণকে ফেরত পাঠানোর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ওই নিখোঁজ তরুণ শেভরন কুমার ওরফে শ্রাবণ কুমার (২৫) ভারতের বিহার অঙ্গরাজ্যের আরারিয়া জেলার রানীগঞ্জ থানাধীন বানভাগ গ্রামের দেবানন্দ ঋষিদেবের ছেলে।
তাকে ঘরে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া একাত্তরের জ্যেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক ও অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি বাংলাদেশ’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামসুল হুদা জানান, শেভরন নামের এক ভারতীয় তরুণ চুয়াডাঙ্গা কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি আছেন এবং কিভাবে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন বা কোথা থেকে এসেছেন, সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই বলে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার ফখর উদ্দিন ফোনে তাকে জানান।
তিনি জানান, বৈধ অভিভাবক খুঁজে না পাওয়ায় শেভরনকে ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি জানিয়ে শেভরনের পরিবারকে খুঁজে বের করতে ফোনালাপে তাকে অনুরোধ করেন জেলার।
শামসুল হুদা জানান, শেভরনের পরিবারকে খুঁজে দেয়ার মিশন শুরুর পর জেলার শেভরনের বিষয়ে কিছু তথ্য পাঠান। ভারতের বিহার অঙ্গরাজ্যের আরারিয়া জেলার রানীগঞ্জ থানাধীন বৈবাগ নামের একটি গ্রামে তার বাড়ি। তথ্য শুধু এতটুকুই!
তিনি জানান, শুরুতেই বিহারের আরাবিয়া জেলা খুঁজে বের করা হয়। এরপর জেলার অধীনে কতগুলো থানা আছে সেটির তালিকাও পাওয়া যায়; যেখানে রানীগঞ্জ নামের একটি থানাও ছিলো।
গত ২৯ মার্চ রানীগঞ্জ থানায় ফোন করে নিজের পরিচয় দিয়ে সব জানানো হলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তা কোনভাবেই তথ্য দিতে রাজি হননি বলে জানান হুদা।
তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ মানুষ এ ধরণের ঝামেলা এড়িয়ে যেতে চান। এখান থেকে কোন আশা না দেখে আবার গ্রাম খোঁজা শুরু হয়।
তিনি জানান, রানীগঞ্জ উপজেলার অধীনে ৮৫টি গ্রাম পাওয়া যায়। সবগুলো মিলিয়ে ৩০টি পঞ্চায়েত আছে। রানীগঞ্জ পড়েছে বিশানপুর পঞ্চায়েতের অধীনে। এর দুইটি গ্রামের একটির নাম ‘বানভাগ’ বা প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ‘বৈবাগ’। গ্রামটির লোকসংখ্যা চার শতাধিক।
হুদা জানান, গেলো ১৪ এপ্রিল থেকে পঞ্চায়েত প্রধান সরোজকুমার মেহতাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য পাঠানো হয়। কিন্তু তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, এতেও হাল ছেড়ে দেননি তিনি। এর আগে, বিহারের দীপককে ফিরিয়ে দেয়ার সূত্র ধরেই তার পরিবারের কাছে পঞ্চায়েতের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। দীপকের আত্মীয়রা সবটা জেনে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে কিছুদিন সময় নেন।
তিনি জানান, এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা জেল থেকে শেভরনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বৈধ অভিভাবকের অভাবে তা সম্ভব হয় নি।
তিনি জানান, কয়েকদিন আগে গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, অন্য একটি গ্রাম থেকে শেভরনের পরিবারকে খুঁজে পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তার আসল নাম শ্রাবণ কুমার। বাবা দেবানন্দ ঋষিদেব খামারে কাজ করেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ছেলের খোঁজ পেয়ে পরিবার জানায়, শ্রাবণের জন্ম ১৯৯৯ সালে। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে শ্রাবণ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ঋণ করেও তারা অনেক জায়গায় খুঁজে বেড়িয়েছেন ছেলেকে। কিন্তু হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।
শামসুল হুদা জানান, বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর চুয়াডাঙ্গা বিজিবি ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার জানিয়েছেন, ২৩ মে বাংলাদেশের জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ভারতের গেদে সীমান্তে শ্রাবণকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, শামসুল হুদার উদ্যোগে গত বছরের ১৪ মার্চ ঝাড়খন্ডের অভিষেক, ২১ মার্চ উত্তরপ্রদেশের সুভাষ ও ২৮ মার্চ বিহারের সমস্তিপুরের দীপক কুমারকেও একই প্রক্রিয়ায় বেনাপোল ও জয়নগর/গেদে সীমান্তে তাদের পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিলো। এ পর্যন্ত ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রায় ২৫ জনকে পরিবারের সাথে যুক্ত করতে পেরেছেন তিনি।
ভারতে নিখোঁজ ঝিনাইদহের এমপির মরদেহ উদ্ধার