চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়া, চুরি এবং কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল না দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফকে অবরুদ্ধ করে রাখে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ ছিলেন জামায়াত সমর্থিত এই চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ধাইনগর ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ২৪০টি পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণের কথা ছিলো। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের প্রত্যেককে দুই কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে।
শুধু চাল কম দেওয়াই নয়, প্রায় দুই শতাধিক দুস্থ মানুষের হাতে ভিজিএফ কার্ড থাকলেও শেষ পর্যায়ে তাদের জানানো হয় চাল শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চালবঞ্চিত গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান চাল চুরি করে বাইরে বেচে দিয়েছেন। এই অভিযোগে তারা চেয়ারম্যানকে পরিষদের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
এদিকে চাল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বলেন, আমি কোনো চাল চুরি করিনি। বিতরণে কিছু অনিয়ম হওয়ার কারণে চালের সঙ্কট হয়েছে।
জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির সাদিকুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জামায়াত সমর্থিত হলেও দলের কোনো পদে নেই।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তৌফিক আজিজ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
