ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র রেলসেতুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে সেতুতে থাকা একটি জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর রশদ সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে কের্চ প্রণালীর ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল সেতুটি ব্যবহার করে আসছিল মস্কো।
বিস্ফোরণের বিষয়ে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো রাশিয়ার অ্যান্টি-টেরোরিজম কমিটির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ছয়টায় ক্রিমিয়ান সেতুতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাতটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ব্রিজটি উদ্বোধন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধের রসদ পাঠানোর জন্য এই সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পরেও গত সাত মাসে এই সেতুতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে এতে হামলা হলে প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল মস্কো।
ফুটেজে দেখা গেছে, রেলসেতুসহ পাশের সড়ক সেতুতেও আগুন জ্বলছে। সেইসাথে একটি ট্রেনের দুটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

টেলিগ্রাম অ্যাপে পোস্ট করা আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেতুর ওপর আগুনে জ্বলছে একটি ট্রাক। তবে সেটি বিস্ফোরণের কারণেই আগুন ধরেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। বর্তমানে এই সেতুটি ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহার করে রাশিয়ান সেনাবাহিনী।
ক্রিমিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ান উপদেষ্টা ওলেগ ক্রিয়ুচকভের বরাতে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা রিয়া জানিয়েছে, সেতুটির আগুন নেভাতে কাজ চলছে। সেখানে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, সেতুটিতে বিস্ফোরণ কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের গণমাধ্যম। শনিবার ভোর ছয়টার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে তারা।
এই সেতুটি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। ২০১৮ সালে এটি উদ্বোধন করেন ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে এটি ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
তবে, আগুন লাগার ঘটনা মিসাইল হামলার ফলে ঘটেনি বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, সেতুর আশেপাশে ক্ষয়ক্ষতির লক্ষণ না থাকায় ধরে নেয়া যায় সেখানে আকাশ থেকে ছোঁড়া অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। তবে সেতুর নিচ থেকে সুপরিকল্পিত হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এদিকে, এ ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক এক টুইটবার্তায় বলেন, 'ক্রিমিয়া, এই সেতু, সবকিছুর শুরু। অবৈধ সবকিছু ধ্বংস করে দিতে হবে, চুরি যাওয়া সবকিছু ইউক্রেনকে ফিরিয়ে দিতে হবে, রাশিয়ার দখলে থাকা সবকিছু অপসারণ করতে হবে।'
আরও পড়ুন: আগুনে জ্বলছে ক্রিমিয়া-রাশিয়া একমাত্র সংযোগ সেতু
এই সেতুটি রাশিয়ার জন্য বিশেষ প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য আর একটি রেললাইন অবশিষ্ট রইলো।
অস্ট্রেলীয় সামরিক বিশ্লেষক মিক রায়ান বলেন, এই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ক্রিমিয়ায় সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে না, যেহেতু সেজন্য নৌপথ রয়েছে। তবে মেলিতোপোলের দখল ধরে রাখা এখন রাশিয়ার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়লো।
একাত্তর/এসজে
