এক বিরল ফোনালাপে অংশ নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধসহ চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে উভয় পক্ষ।
গত ১৩ মে'র পর এই প্রথম দু'জনের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলো। তাদের আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের প্রেস সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট রাইডার বলেন, যোগাযোগের রাস্তা খোলা রাখতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, মে'র পর আর এই দু'জনের মধ্যে কথা হয়নি। তাই শোইগুর সাথে যোগাযোগ করতে এই দিনটির সুযোগ নিয়েছেন অস্টিন।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন পরিস্থিতিসহ বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।
গত মে'তে ফোনালাপের পর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে শোইগুর প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন অস্টিন। তবে এবার আর সে ব্যাপারে কোনোকিছু উল্লেখ করা হয়নি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করার হুমকি ও তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়ার পরই অনুষ্ঠিত হলো এই ফোনালাপ।
এই ইস্যুতেই এই ফোনালাপ আয়োজন করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্যাট রাইডার বলেন, পুতিনের ইঙ্গিত 'দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্বেগজনক' হলেও, রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে 'এমন কোনও লক্ষণ আপাতত দেখছে না' যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। ২০২১ সালে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হলেও, ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যে সে অগ্রগতি থেমে গেছে।
আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ায় জি২০ সম্মেলনে পুতিন ও বাইডেনের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তবে তারা সরাসরি দেখা করবেন না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: বোয়িং ৭৩৭ বিধ্বস্তে নিহতদের 'অপরাধের শিকার' আখ্যা দিয়ে রায়
এ সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা চার অঞ্চলে সামরিক শাসন জারি করার পর যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ভয় দেখিয়ে ইউক্রেনীয়দের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধকে প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে রাশিয়া।
একাত্তর/এসজে
