তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক উইলিয়াম বার্নস ও রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ফরেইন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান সের্গেই নারিশকিন।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভের বরাতে জানিয়েছে রুশ বার্তাসংস্থা তাস।
পেসকোভ বলেন, 'এ ধরণের আলাপ-আলোচনা সত্যিই হয়েছে। এর উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকা।'
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বার্নস ও নারিশকিনের মধ্যকার বৈঠকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিণাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যেও একই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বার্নস ইউক্রেন যুদ্ধের মীমাংসা নিয়ে কোনও ধরণের আলাপ-আলোচনা করেননি। তিনি কেবল রাশিয়া কর্তৃক পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিণাম ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির ব্যাপারে বার্তা দিচ্ছেন।
এছাড়াও বার্নস বেআইনিভাবে আটক মার্কিন নাগরিকদের ব্যাপারেও কথা বলবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
রাশিয়ায় নিযুক্ত সাএক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নসকে ২০২১ সালে বাইডেন রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন নিয়ে তাকে সতর্ক করতে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বার্নসের সফর নিয়ে আগেই ইউক্রেনকে জানানো হয়েছিলো। ইউক্রন বিষয়ে তাদের মৌলিক নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, আর তা হলো ইউক্রেনের ব্যাপারে কোনও কিছুই ইউক্রেনকে ছাড়া হবে না।
আরও পড়ুন: ৮০০ কোটি ছুঁলো বিশ্বের জনসংখ্যা, বাংলাদেশ অষ্টম
এদিকে, এ বৈঠকের ব্যাপারে জাতিসংঘ প্রধান অ্যান্টনিও গুটেরেসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘ কিছুই জানে না। তবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলাপকে ইতিবাচক লক্ষণ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্ব। ইন্দোনেশিয়ায় জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের আগে চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকেও তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন।
একাত্তর/এসজে
