জাপানে চলতি মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক এভিয়ান ফ্লু'র সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। রাজধানী টোকিওর অদূরে অবস্থিত চিবা জেলার আসাহি শহরে এবং দক্ষিণের জেলা ফুকুওকার কোগা শহরে মুরগির খামারে সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ৷
দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাতে এনএইচকে জানায়, মঙ্গলবার সর্বশেষ এই দুই সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে এই মৌসুমে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের সংখ্যা ২০২০-২০২১ সালের শীতকালে হওয়া আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
চিবা জেলা কর্মকর্তারা জানান, সোমবার ওই খামারে ৩০টি মুরগি মারা যায়। এসবের দেহে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এরইমধ্যে ওই খামারের প্রায় ১০ হাজার মুরগিকে মেরে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি খামারের ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মুরগি ও ডিমের পরিবহন এবং ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা থেকে এগুলোর চালানও নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চিবা জেলার গভর্নর কুমাগাই তোশিহিতো সোমবার বলেন, স্থানীয় মুরগি ও গবাদি পশু শিল্পের উপর এ সংক্রমণের প্রভাব কমাতে হলে এর প্রাদুর্ভাব অবশ্যই রোধ করতে হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণের জেলা ফুকুওকার কোগা শহরের একটি খামারে সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করার পর সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা পায়ে ঠেলে গাইবান্ধায় ভোট চলছে
উল্লেখ্য, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা এভিয়ান ফ্লু ভাইরাসজনিত মুরগির একটি মারাত্বক সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ। অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বা উচ্চ মৃত্যু হারের জন্য এ রোগকে মুরগির প্লেগও বলা হয়। রোগটিকে বার্ড ফ্লু বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
মুরগি, টার্কি, ফিজ্যান্ট, কোয়েল, হাঁস, রাজহাঁস, গিনিফাউল এবং আরও নানা জাতীয় পাখি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ধারণা করা হয় বন্য জলচর পাখিরা এ ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করে। সকল বয়সের মুরগি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে তবে বাচ্চা ও বাড়ন্ত মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়। তাছাড়া, এটি একটি জুনোটিক ডিজিজ, যা মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
