মিয়ানমারে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (কেএনএলএ) সশস্ত্র যোদ্ধারা মায়াবতী জেলার সীমান্ত রক্ষী চৌকিতে হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর: বিবিসি ও আলজাজিরা।
শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ শুধুমাত্র শোয়ে কোক্কো এলাকা থেকেই পালিয়েছে। এলাকাটি এখন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী কেএনএলএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
থাই কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমারের কারেন রাজ্যের মায়াবতী জেলায় সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তবর্তী শহরটি থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের কাছে অবস্থিত।
তাক প্রাদেশিক কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানান, থাইল্যান্ডের ১০টি এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে তিন হাজার ৯৯৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাহায্য সংস্থার কর্মী জানান, মানুষের কাছে এখন পর্যাপ্ত খাবার ও পানিও নেই। গতকাল থেকে অনেক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। কেউ কেউ এখনও সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে, অস্থিরতা শুরু হয় মিয়ানমারে। যার ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে দেশটিতে।
ওই অভ্যুত্থানের পর কেএনএলএ-র মতো কিছু জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী অভ্যুত্থান-বিরোধীদের সঙ্গে মিলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। মিয়ানমারের জেনারেলরা তাদের দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য মতে, অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার ২১২ জনকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনারা, ১৭ হাজারের বেশি আছেন কারাগারে।
পর্যবেক্ষকরা বোমা ও স্থল হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করায় সামরিক বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে বোমা হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হন।
তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তারা। বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের দায়ী করছে সেনারা।
আরও পড়ুন: উড়ন্ত বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা মাতাল যাত্রীর
এর আগে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ।
একাত্তর/জো
