ইউক্রেনে পৌঁছানোর আগেই চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে রুশ টিওএস-ওয়ান-এ রকেট সিস্টেম। কিয়েভের স্বার্থের জন্য এই অস্ত্র ভয়াবহ হুমকি। যথেষ্ট শক্তিশালী এ সিস্টেম দিয়ে ইউক্রেনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব।
রুশ শক্তিশালী ব্ল্যাজিং সানস রকেট সিস্টেম নিয়ে এমন সতর্কতা মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড হ্যাম্পলিংয়ের। তার ধারণা এটিকে প্রতিহত করা না গেলে, ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনকে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে হবে। রাশিয়ার আগ্রাসন বাড়বে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, অত্যাধুনিক রকেট সিস্টেম টিওএস-ওয়ানএ' পরিচালনায় নিয়োজিত সৈন্যদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে এ অস্ত্র। আগুনে পোড়ে শরীরের বাইরের অংশ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভ্যন্তরীণ অঙ্গের, হয়ে থাকে মৃত্যু পর্যন্ত।

টিওএস-ওয়ান-এ’কে ব্ল্যাজিং সানসও বলা হয়। ৪ এপ্রিল মস্কো জানায়, কিংবদন্তী এই অস্ত্রের সর্বাধুনিক সংস্করণ ইউক্রেনে পাঠানো হচ্ছে। যদিও কিছু গণমাধ্যম জানায়, আগে থেকেই এটি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। তবে বর্তমানে অনেকগুলো ইউনিট পাঠানো হচ্ছে।
রুশ এক কর্মকর্তা বলেন, টিওএস ওয়ান-এ প্রতিপক্ষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করবে। প্রচণ্ড ভয়ানক এটি। এ সিস্টেমের দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহার মস্কোর বিজয় ত্বরান্বিত করবে।
রুশ টিভি উপস্থাপক ভ্লাদিমির সোলোভইয়ভ আহ্বান জানান, জ্বলন্ত সূর্য দিয়ে থার্মোবারিক অস্ত্র বা ভ্যাকুয়াম বোমার ব্যবহার করে ইউক্রেনে আরো রক্তপাত ঘটানো উচিৎ।
রুশ টিওএস-ওয়ান এবং টিওএস ওয়ান-এ থেকে থার্মোবারিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা হয়। যখন এটি জ্বলে উঠে তখন আশপাশের অক্সিজেন ব্যবহার করে উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটায়। অক্সিজেন শূন্য করে দেয় আশপাশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বেশি ভয়ানক কারণ, প্রথমে এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, পরে সঙ্গে থাকা কন্টেইনারের জ্বালানি অক্সিজেনে মিশে আশপাশে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সোভিয়েত থেকে আজকের রাশিয়া, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে এটি। উল্লেখযোগ্য হলো আফগানিস্তান এবং চেচেন যুদ্ধে। ইউক্রেনেও যা ব্যবহার হচ্ছে। টিওএস-ওয়ান-এ, টিওএস-ওয়ানের আধুনিক সংস্করণ। যা ২০০১ সালে তৈরি করা হয়। ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসে ব্যবহার হচ্ছে এটি। ইউক্রেনীয় বাহিনীও ধ্বংস করেছে এ অস্ত্র।
রকেট সিস্টেমটি ব্যবহারে প্রয়োজন ৩ জন ক্রু। সিস্টেমটিতে ব্যবহার হয়েছে টি-সেভেনটিটু চ্যাসিস ব্যবহার হয়েছে। একসাথে ২৪টি রকেট লোড করা যায়। রিজার্ভে রাখা যায় আরো ৪৮টি। চারশো থেকে ছয় হাজার মিটারের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে টিওএস-এওয়ান।
একাত্তর/এআর
