আফ্রিকার দেশ মালিতে শান্তিরক্ষা মিশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া প্রস্তাবে মালিতে শনিবার থেকে শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার করা হবে।
এক ঘোষণায় জাতিসংঘ জানায়, ছয় মাসের মধ্যেই দেশটিতে থাকা শান্তিরক্ষীদের ফিরিয়ে নেয়া হবে। শান্তিরক্ষী হিসেবে মালিতে বাংলাদেশের ১ হাজার ৩৯৬ সেনাসদস্য আছেন।
এ ছাড়া দেশটিতে ২৮৩ জন পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালিতে শান্তিরক্ষী হিসেবে সেনা পাঠানো শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
দেশটিতে শান্তিরক্ষী হিসেবে ১৫ হাজার ২০৯ জনের নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সেনা সদস্য আছেন ১৩,২৮৯ জন। পুলিশ সদস্য রয়েছেন ১,৯২০ জন।
মালির সামরিক জান্তা দু’সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই দেশটি থেকে শান্তিরক্ষীর শক্তিশালী বাহিনীকে চলে যেতে বলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ শান্তিরক্ষা মিশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে মালিতে অবস্থানরত শান্তিরক্ষী বাহিনীকে ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মালি শান্তিরক্ষা মিশন প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও পড়ুন: কুমিরকে বিয়ে করলেন ওক্সাকা রাজ্যের মেয়র
জাতিসংঘের মালি মিশনের প্রধান এল গাসামি জানান, কোনো দেশের সম্মতি ছাড়া সে দেশে শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা প্রায় অসম্ভব।
এর আগে দেশটিতে এখনো পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এ মিশনের সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
মালিতে এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্বরত অবস্থায় তিনশ’র বেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এতে বিশ্বের সবচেয়ে ঝূঁকিপূর্ণ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিণত হয়েছে দেশটিতে।
একাত্তর/আরবিএস
