সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে খান খান হয়ে, রাশিয়া তৈরি হলেও দেশটিকে নিয়ে এখনও ভয় পায় আমেরিকা ও তাদের মিত্র সব দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একট্টা হয়ে নাৎসিদের বিরুদ্ধে লড়লেও রাশিয়াকে সমর শক্তি নিয়ে ভাবলেই পশ্চিমাদের হাঁটুতে কাঁপন ধরে। সেই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে আরও ভয়ঙ্কর রূপে ফিরছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাড়াচ্ছেন পরমাণু শক্তি।
পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে চলমান হাইব্রিড যুদ্ধে জিততেই পারমাণবিক শক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া, একথা বলেছেন রাশিয়ার শক্তিধর নেতা পুতিন।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পুতিন সবসময়ই বলেছেন, ইউক্রেনের শক্তি বেশি দিন থাকবে না। পশ্চিমারাও ধীরে ধীরে এই যুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। শেষ পর্যন্ত পুতিনের কথাই সত্যি হলো। মার্কিনীদের হাড়বুড়ো নেতা বাইডেনও বলছেন, কিয়েভের জন্য তাদের ভাণ্ডার শেষ।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভলোদেমির জেলেনস্কিকে সাহায্যে পশ্চিমা বিশ্ব যেই তৎপরতা শুরু করেছিল, তা এখন আর চোখে পড়ার মতো নেই। উল্টো এটা পরিষ্কার যে পশ্চিমারা আর এই যুদ্ধে অপচয় করতে চায় না। সবচেয়ে কাছের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের হাত গুটিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরাও একই বার্তা পাঠিয়েছে জেলেনস্তিকে। বলে দিয়েছে, অনেক দিয়েছি ভাই, আর পারছি না।

রুশ সেনাদের দখলে থাকা ভূখণ্ডের পুনর্দখল নিতে গেল জুনে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছিল ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাদের বুদ্ধি পরামর্শ ও সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছিলো মিত্ররা। তবে, গ্রীষ্মে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জন তো সম্ভবই হয়নি, বরং শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন আতঙ্কে দিন পার করছে সেনারা। অর্থাৎ গেল ছয় মাসে চমকে দেয়ার মতো সাফল্য তো দূরে থাক সামান্যও অগ্রসর হতে পারেনি সৈন্যরা। উল্টো রুশ সেনাদের সাথে সম্মুখ সমরে বহু প্রাণহানি-ক্ষয়ক্ষতিতে জেরবার ইউক্রেন।
সম্মুখ সমরে রুশ সেনাদের অব্যাহত হামলায় ইউক্রেনীয় সেনারা যে বড় বেকায়দায় পড়েছে তার বড় কারণ সেনা সংকট, অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের অভাব। পাশাপাশি ইউক্রেন সেনাদের জন্য বড় এক আতঙ্ক হয়ে উঠেছে নতুন রুশ সেনারা। নতুন নিয়োগ পাওয়া এসব সেনার বেশিরভাগই কারাবন্দী ছিলেন। ইউক্রেনীয় সেনাদের তুলনায় তারা বেশি প্রশিক্ষিত এবং অস্ত্রে সজ্জিত। তাদের পেছনে থাকে রুশ সাঁজোয়া বাহিনী।
রাশিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধের দুই বছর পূর্তির আগে ইউক্রেন বাহিনী আরও পাঁচ লাখ মানুষকে সেনা কার্যক্রমে দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ নিয়ে কিয়েভে মঙ্গলবার বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, কমান্ডাররা আরও সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ সেনাসদস্য চান। বিষয়টিকে ‘সংবেদনশীল’ ও ‘ব্যয়বহুল’ উল্লেখ করেছেন তিনি।

শীতের শুরুতেই কিয়েভের পাল্টা আক্রমণ থেমে যাওয়ার উপক্রম। এই সময় রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা বলেন, পশ্চিমা সমর্থন ছাড়া মারা পড়ার মতো বিপদে পড়বে ইউক্রেনের মানুষ। অন্যদিকে ইউক্রেনের চলমান পরিস্থিতি সুবিধা এনে দিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।
চলতি সপ্তাহেই তিনি বলেছেন, তাদের বাহিনী আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। সব লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার করেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমানে ইউক্রেনের দৃশ্যমান কোনো শান্তি আলোচনা নেই। সেই সঙ্গে বিজয় বিজয় বলেও আগের মতো উচ্চবাচ্য করছে না জেলেনস্কি। বিপরীতে, রুশ নেতা পুতিন আবারও পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, ইউক্রেনকে নাৎসি মুক্ত করে, তবেই তিনি ছাড়বেন।
ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধ করছে কিছু নচ্ছার প্রোটিয়া!