রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে না পেরে, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে ইসরাইলি সৈন্যরা। কিন্তু এর মাঝে বিভিন্ন সূত্র বলেছে, গাজায় যেসব ইসরাইলি সৈন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে আফ্রিকার নাগরিকও আছে। আর এই খবর শুনেই চড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের এই ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। এই খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অফ ইসরাইলসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কাজ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিলিস্তিনিদের ওপর অবর্ণনীয় নিপীড়নকে বর্ণবাদী শাসনের সময়কার দুর্দশার সঙ্গে তুলনা করেছে দেশটি। এরিমধ্যে ইসরাইল থেকে সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করেছে সিরিল রামাফোসা সরকার। এর মধ্যেই যখন এমন খবর এলো তখন আর চুপ থাকতে পারেননি আফ্রিকা মহাদেশের এই শীর্ষ নেতা।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের হয়ে লড়াইরত আফ্রিকার নাগরিকরা ঘরে ফিরলেই তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। কিছু আফ্রিকার নাগরিক আইডিএফে যোগ দেয়ার খবরে ভয়াবহ রকমের উদ্বিগ্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবেও দেখছে মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয় এটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধও বলছে দেশটি।
তবে ঠিক কতজন নাগরিক আইডিএফে যোগ দিয়েছে তা এখনো জানাতে পারেনি সাউথ আফ্রিকা। যদিও কতজন আইডিএফের সাথে যুক্ত সেটি নিশ্চিতে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলের হয়ে লড়াইয়ের জন্যে নাগরিকদের আগে অনুমতি নিতে হয়। দেশের সমর্থন নেই এমন যুদ্ধে জড়িত থাকার জন্যে নাগরিকরা সাউথ আফ্রিকার জাতীয়তা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কাজ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরই মধ্যে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানোর দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসিল রামাফোসা এ অভিযোগ দায়েরের তথ্য নিশ্চিতও করেছেন।
ব্যাপক মহামারি ঝুঁকিতে গাজা : ডব্লিউএইচও