তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে ভারতের দক্ষিণের শহর বেঙ্গালুরুতে। ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় গাড়ি ধোয়া, নির্মাণকাজ, বাগান পরিচর্যাসহ বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
দৈনন্দিন কাজে পানির অভাবে দিশেহারা মানুষদের মধ্যে সরকারের এই নির্দেশ এসেছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে। তবে নির্দেশ অমান্য করে পানি ব্যবহার করলে পাঁচ হাজার ভারতীয় রুপি জরিমানা গুনতে হবে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
আর প্রতিবার নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরো ৫০০ টাকা করে জরিমানার সঙ্গে যুক্ত হতে থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন বোর্ড জানিয়েছে, নগরবাসীকে যানবাহন ধোয়া, নির্মাণ ও বিনোদন কাজে, সিনেমা হলে এবং বাগান পরিচর্যায় পানি ব্যবহার এড়াতে হবে।
গত তিন মাস ধরে চলা পানির সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে গত কয়েকদিনে। নাজুক অবস্থা গোটা কর্ণাটক রাজ্যেই। হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে তুমাকুরু, উত্তর কন্নড় জেলাতেও।
তবে তীব্র সংকট ধারণ করেছে রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। সেখানে এক বালতি পানি কিনতে মানুষকে গুনতে হচ্ছে এক থেকে দুই হাজার ভারতীয় রুপি।
ভারতের অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ ও উন্নত শহরগুলোর একটি বেঙ্গালুরু, জনসংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ। মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ২৬০ থেকে ২৮০ কোটি লিটার। কিন্তু, এই চাহিদার বিপরীতে সরকার সরবরাহ করতে পারছে ১১০ থেকে ১৩০ কোটি লিটার। অর্থাৎ দিনে ঘাটতি থাকছে ১৫০ কোটি লিটারের বেশি।
আর এই সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে সরকার। তড়িঘড়ি করে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতি কতোটা মোকাবিলা করা যাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে কম বৃষ্টি হওয়ার কারণেই পানির সংকট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানিরস্তুর নেমে যাওয়ায় শহরের বেশির ভাগ এলাকার নলকূপ শুকিয়ে গেছে। আর এতে পানিশূন্য হয়ে শুকিয়ে গেছে অন্তত ৩০০০ ট্যাঙ্কার।
কর্ণাটক রাজ্যের ২৩৬টি তালুককে খরা আক্রান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর এর মধ্যে ২১৯টি তালুকের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর বলেও জানানো হয়েছে।
আর সংকট মোকাবেলার রাজ্য সরকার যেসব সমাধানগুলি খুঁজছে, তার মধ্যে রয়েছে বাসিন্দাদের সমিতি থেকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন পরিশোধিত পানি।
নলকূপ শুকিয়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে মজুদ করার ট্যাঙ্কার কিনতে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে সাধারণ মানুষদের। আর বেসরকারিভাবে ট্যাঙ্কারে রিজার্ভ করে যারা পানির ব্যবসা করেন, তাদেরকে পানির দাম কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ এ বিপর্যয়ে জনগণকে সহায়তা করতে জরুরি কল সেন্টার খোলা হয়েছে। সেখানে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আর সাহায্যের আবেদনের জন্য মানুষ সেখানে ফোন করলেও কোনো সাড়াই মিলছে না বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।
আর এরি মধ্যে অবৈধ পানির ট্যাঙ্কার মালিকদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
