করোনা মহামারির প্রথম দুই বছরে বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু ১ দশমিক ৬ বছর কমেছে। পূর্বে বিজ্ঞানীরা যা ধারণা করেছিলেন, নাটকীয়ভাবে গড় আয়ু তারচেয়ে অনেক বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মঙ্গলবার বিশ্ববিখ্যাত মেডিকেল জার্নালে দ্য ল্যানসেটে এ বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। খবর দ্য স্ট্রেইট টাইমসের।
গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী আয়ুষ্কালের এক দশক-দীর্ঘ বৃদ্ধির পর এটি এখন উল্টো দিকে ঘুরছে।
আইএইচএমই গবেষক এবং দ্য ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অস্টিন শুমাখার বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, কোভিড-১৯ মহামারি গেলো অর্ধ শতাব্দীতে পৃথিবীতে সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ ঘটা যে কোনো ঘটনার চেয়ে আরও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২০-২০২১ সালে, ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের বিশ্লেষণে ৮৪ শতাংশে আয়ু হ্রাস পেয়েছে, যা নতুন ভাইরাসগুলোর বিধ্বংসী সম্ভাব্য প্রভাব প্রদর্শন করে।
এ সময়ে ১৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার পুরুষদের জন্য ২২ শতাংশ এবং মহিলাদের জন্য ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষকরা অনুমান করেছেন, মেক্সিকো সিটি, পেরু এবং বলিভিয়ায় আয়ু সবচেয়ে বেশি কমেছে।
কিন্তু আইএইচএমই এর ল্যান্ডমার্ক গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডির আপডেট করা হিসেবে কিছু ভালো খবর পাওয়া যায়। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ কম শিশু মারা গেছে, যা শিশু মৃত্যুহারের দীর্ঘমেয়াদি পতন অব্যাহত রেখেছে।
আইএইচএমই গবেষক এই ‘অবিশ্বাস্য অগ্রগতি’কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বকে এখন পরবর্তী মহামারি এবং বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যের বিশাল বৈষম্য মোকাবেলার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।
গবেষকরা বলেছেন, ১৯৫০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ু ২৩ বছর বেড়ে ৪৯ থেকে ৭২ বছর হয়েছে।
কোভিড ২০২০-২০২১ সময়কালে সরাসরি ভাইরাস থেকে বা পরোক্ষভাবে মহামারি-সম্পর্কিত কারণে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৫৯ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বে অনুমান করা থেকে দশ লাখের হিসেবের চেয়ে অতিরিক্ত মৃত্যু।
বার্বাডোস, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা মহামারি চলাকালীন সবচেয়ে কম মৃত্যুর হারের দেশগুলোর মধ্যে ছিলো।
করোনা টিকার দু'টি অত্যন্ত বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শনাক্ত