পৃথিবীর দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে চরম বিপদের সঙ্কেত দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা । সংস্থাটি বলছে, পৃথিবীর উষ্ণতম বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে ২০২৪ সাল।
আবহাওয়া সংক্রান্ত বার্ষিক রিপোর্টে সবচেয়ে উষ্ণ দশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২০১৪ থেকে ২০২৩-এর সময়সীমাকে। ২০২৩ সাল উষ্ণায়নের পুরনো সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি ছিলো পৃথিবীর উষ্ণতম মাস। ৮ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস ১৯৫০ সাল থেকে সিথ্রিএস-এর তাপমাত্রা রেকর্ড তালিকায় সর্বোচ্চ। এর আগে উষ্ণতম জানুয়ারির রেকর্ড ছিল ২০২০ সালের। জানুয়ারির পর মার্চেও বেড়ে চলছে তামপাত্রা।
একদিন আগেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে ৬২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয় ।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গত বছরের তুলনায় ২০২৪ সাল আরও বেশি রের্কড গরম পড়ার এক-তৃতীয়াংশ আশঙ্কা রয়েছে।

গত ২০২৩ সাল ছিল বিশ্বে ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গরমের বছর। ইউরোপ-আমেরিকায় তীব্র দাবানল, মধ্যপাচ্যে রেকের্ড ভাঙা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়। এশিয়ার দেশগুলোতে খরায় পুড়ে ফসলের মাঠ।
তবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার এমন পরিবর্তন হঠাৎ করে ঘটেনি। বরং গত এক দশক ধরেই পৃথিবীর আবহাওয়া উষ্ণতার দিকে মোড় নিচ্ছে ।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গত বছরে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়া ছিল উদ্বেগের একটি বিষয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রধান আন্দ্রিয়া সাওলো একে বিশ্বের জন্য রেড অ্যালার্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের দিকটি আরও ব্যাপক হয়ে উঠবে।
সাওলোর মতে, ২০২৩ সালটি সমুদ্রের জলের তাপমাত্রার অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে। তিনি বলেন, হিমবাহ গলে যাওয়ার মাত্রায় ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে।
উষ্ণায়নের এই ধাক্কায় গত বছরটিতে সমুদ্রের জলের উচ্চতার সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছে। আর সাগরের জল গরম হয়ে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রে বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
মানবসৃষ্ট একাধিক কারণে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠে উষ্ণ পানির স্রোত বা এল নিনোর কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের প্রভাব দুনিয়াজুড়ে মানুষের জীবনে যে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, বিশেষ করে বন্যা ও খরা, চরম তাপমাত্রার প্রভাবে মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া ও খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা রয়েছে ।
জলবায়ুর গুরুতর এবং অপরিবর্তনীয় পরিণতি ঠেকাতে ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি নামে একটি জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্ব নেতারা।
এই চুক্তির আওতায় দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। তবে এখনও প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি।
