জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখছে পৃথিবী। বৈরী আর বিরূপ আবহাওয়ায় টালমাটাল গোটা বিশ্ব। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন বন্যা, বৃষ্টি আর ভূমিধ্বসের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ইউরোপ জ্বলছে তীব্র তাপদাহে, নিত্যদিন পারদের ওঠানামা তৈরি করছে নতুন নতুন রেকর্ড।
ভারতের হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৫১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২২ জন। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলায় উদ্ধারকারীরা অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে মঙ্গলবার মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় হিমাচলে। এতে ১৪টি সেতু, ১৪৮টি বাড়ি এবং দুটি দোকান ভেসে যায়। ফলে বহু মানুষ হতাহত হয়, যার বেশির ভাগই মান্ডি জেলায়। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা দুর্যোগের পর নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমতে থাকে।

হিমাচলে যখন এই পরিস্থিতি তখন, পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এক সপ্তাহে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১১৭ জন।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ- এনডিএমএ বলছে, বন্যা-বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু।
দেশটির সোয়াত উপত্যকায় দেখা দেয়া আকস্মিক বন্যায় গেল সপ্তাহে অন্তত ১৪ জন ভেসে গেছেন। এছাড়া, পাঞ্জাব প্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ধসে ও আকস্মিক বন্যায় আরও ২১ জন মারা গেছেন। যাদের ১১ জনই শিশু। পাশাপাশি সিন্ধু প্রদেশে ১৫ জন এবং বেলুচিস্তানে ৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, সময়ের আগেই ইউরোপে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। তুরস্ক ও গ্রিসে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। অপরদিকে তীব্র গরমের কারণে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল ও জার্মানিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি সহনীয় আবহাওয়ার দেশ নেদারল্যান্ডসেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে মারা গেছে কমপক্ষে আটজন।
তীব্র তাপদাহ বিপর্যস্ত পুরো ইউরোপ। কোথাও ভয়াবহ গরম, কোথাও আবার দাবানল। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে প্রাণহানিও বাড়ছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে। তীব্র তাপদাহে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ৩০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এখনও লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, বুধবার জার্মানিতে বছরের অন্যতম উষ্ণতম দিন ছিল। এদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গরমের কারণে অনেক শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

তীব্র গরমের কারণে, ইতালির ১৮টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে মিলান ও রোমও রয়েছে। গরমজনিত অসুস্থতার কারণে ইতালিতে মারা গেছেন দুজন। স্পেনের ওপর দিয়েও বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এরইমধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে কাতালোনিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে। দাবানলটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবানলে পুড়েছে ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিস। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্রেতে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় সেখান থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জরুরি ভিত্তিতে ছড়িয়ে নেয়া হচ্ছে।
তুরস্কের সমুদ্র তীরবর্তী ইজমির প্রদেশে এখনো সক্রিয় রয়েছে দাবানল। ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে দেশটির বন মন্ত্রণালয়। বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচটি অঞ্চল থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই চরম আবহাওয়ার কারণে সুইজারল্যান্ডের বেজনাউ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ইউটিলিটি কোম্পানি অ্যাক্সপো। একই সঙ্গে আরেকটি চুল্লির উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, কারণ নদীর পানি অত্যধিক গরম হয়ে যাওয়ায় তা চুল্লিগুলোকে ঠান্ডা রাখার উপযোগী থাকছে না।
ট্রাম্পের সমর্থন কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীর দখলে নেয়ার পরামর্শ
স্পেন গাড়ি দুর্ঘটনায় লিভারপুলের জোতা নিহত