অপেক্ষার পালা শেষ। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। এরপরই বিরল এক মহাজাগতিক বিষ্ময়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবীর শত কোটি মানুষ। বছরের প্রথম বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। সোমবার সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদের আগমনে সেটির ছায়ায় পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে তৈরি হবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এর ফলে পৃথিবীর ওই অংশে দিনের বেলায় নেমে আসতে পারে রাতের মতো অন্ধকার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এছাড়া স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ অন্য আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত থেকে সরাসরি এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। যে সব থেকে দেথা যাবে সেখানে এখন রীতিমতো হুলুস্থল অবস্থা, হইহই রইরই কান্ড।
চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ প্রতি বছরই হলেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিরল। আট এপ্রিল সেই বিরল ঘটনারই সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। তবে শুধু উত্তর আমেরিকা থেকেই খালি চোখে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিট থেকে রাত ২টা ৫২ মিনিটের মধ্যে এই সূর্যগ্রহণ হবে। ফলে ভারত, বাংলাদেশ এবং আশেপাশের অঞ্চলে থেকে সেটা দেখা যাবে না।
যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে চাঁদ, তখন ঢাকা পড়ে যায় সূর্য। একেই বৈজ্ঞানিক ভাষায় সূর্যগ্রহণ বা সোলার একলিপ্স বলা হয়। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে দেয় সূর্যকে। এটিই হল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এর জেরে দিনের বেলাতেই অন্ধকার নেমে আসে। চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ প্রতি বছরই হলেও, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওকলাহোমা, মিসৌরি, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, আরকানসাস, টেনেসি, কেনটাকি, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, ভারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মেইন আমেরিকাসহ মোট ১৮টি রাজ্য থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রথম দেখা যাবে মেক্সিকোর উপকূলে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৭ মিনিট নাগাদ অন্ধকার নামবে। দুপুর দেড়টায় মেইনে আঁধার নামবে।
মোট আড়াই ঘণ্টা ধরে এই গ্রহণ চললেও, সম্পূর্ণ অন্ধকার নামবে কেবল ৪ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের জন্য। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে এই গ্রহণ স্থায়ী হবে। টানা চার মিনিট চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে থাকবে সূর্য। যা গত ৫০ বছরে কখনও কোনও গ্রহণেই হয়নি। আর সেজন্যই মহাজাগতিক এক বিরল আশ্চর্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী।
পৃথিবীজুড়ে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে রয়েছে হাজারো জনশ্রুতি, কল্পকাহিনি ও কুসংস্কার। অনেকে বলে থাকে, গর্ভাবস্থায় থাকা কোন নারী সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ দেখলে সন্তানের ক্ষতি হবে। আবার অনেকে সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণকে অমঙ্গলজনক হিসেবে ধরা হয়। সূর্যগ্রহণের সময় কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এমন সব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কখনোই পাননি বিজ্ঞানীরা।
আসছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিন হবে রাতের মতো